সুর চড়াতেই মনোরঞ্জনের কার্যালয়ে হামলা, ‘আমি আসছি, খেলা জমে যাবে’, তৃণমূল নেত্রীকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

গত বেশ কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই খালি তৃণমূল নেতা বনাম তৃণমূল নেতার সংঘাতের কথাই শোনা যাচ্ছে। প্রথমে অর্জুন সিং ও সোমনাথ শ্যাম আর এখন মনোরঞ্জন ব্যাপারী ও রুনা খাতুন। আগেই নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছিলেন হুগলির বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এবার তাঁর কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল। বিধায়কের পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘এবার খেলা জমে যাবে’।  

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোররাতে হুগলির বলাকা বিধানসভার জিরাটে হাসপাতালে বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূল নেত্রী রুনা খাতুনকে দায়ী করেছেন বিধায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারিও শানিয়েছেন তিনি।   

কী বলেছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী?

তৃণমূল বিধায়ক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “আমি এখন কলকাতায়। খবর পাওয়া গিয়েছে রুনা খাতুন নাকি তার দলবল পাঠিয়ে আমার বিধায়ক কার্যালয় ভাঙচুর করছে। এবার আমার পালটা দেওয়ার সময়। আসছি আমি বলাগড়ে। এবার খেলা জমে যাবে”।

সুর চড়াতেই মনোরঞ্জনের কার্যালয়ে হামলা, ‘আমি আসছি, খেলা জমে যাবে’, তৃণমূল নেত্রীকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

আজ সকালে দেখা যায় বিধায়কের কার্যালয়ের অবস্থা লন্ডভন্ড। ভাঙচুর চেয়ার টেবিল। এই নিয়ে এদিন সকালেও ফেসবুকে লেখেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। নিজের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “বলেছিলাম আমার উপর হামলা হতে পারে। আমার কথার বারো ঘন্টা কাটতে না কাটতেই রাত আঁধারে জিরাটের আমার বিধায়ক কার্যালয়ে উপরে হামলা হয়েছে। অফিসের লোকদের মেরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে”।

প্রসঙ্গত, গতকাল, বুধবার থেকে কার্যত গরম রয়েছেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এর আগেও দলের একাংশ নেতাদের বিরুদ্ধে বেসুরো মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল। তবে গতকাল যেন সকাল থেকেই ‘অ্যাটাকিং’ মুডে ছিলেন বলাগড়ের বিধায়ক। এদিন ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে রুনা খাতুন সঙ্গে করে ২০-২৫ জন শার্প শুটার নিয়ে ঘুরে বেড়ান। যে কোনও মুহূর্তে তাঁকে ‘মাটিতে পুঁতে দিতে’ পারেন বলে দাবী করেন বিধায়ক। নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে প্রয়োজন পড়লে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, সেই রুনা খাতুন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “উনি টাইমলাইনে থাকার জন্য আমাকে কুরুচিকর আক্রমণ করছেন। আর কার্যালয় ভাঙচুর নিয়ে আমায় দুষছেন। আমি তো বলব নিজে খোঁজ নিন আগে। উনি কার থেকে টাকা নিয়ে রেখেছেন, কী করছেন। এটা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ নয়তো”।

আরও অন্যান্য খবর