সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে হিন্দুত্বে শান দিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছে বিজেপি। এমন আবহে এবার ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্ম কখনও বাংলাকে ভাগ হতে দেবে না, এমনটাই দাবী তাঁর।
কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
আজ, মঙ্গলবার জয়নগরে প্রশাসনিক সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগণার এই অংশে বিপুল হিন্দু সংখ্যালঘুরা রয়েছে। সেই সভা থেকেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা শান্তির জায়গা, বাংলা কোনও ভেদাভেদ করে না, বাংলা মুসলমানদের মক্কা মদিনা, বাংলা হিন্দুদের দক্ষিণেশ্বের-বেলুড়মঠ, বাংলা তফসিলিদের মতুয়া ঠাকুর, বাংলা আদিবাসীদের জাহের থান”।
লোকসভা নির্বাচনের আগেই উদ্বোধন হতে চলেছে অযোধ্যার রামমন্দির। সেই উদ্বোধনের জন্য উত্তরপ্রদেশ ও কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে আয়োজন শুরু করেছে, তাতে সম্পূর্ণভাবেই রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছেন বিরোধীরা। বাংলাতেও সংঘ পরিবার ও বিজেপি রামমন্দিরের প্রচার চালাচ্ছে।
এই রামমন্দির প্রসঙ্গে এদিন মমতা বলেন, “কালকে আমাকে জিজ্ঞেস করছিল, রাম মন্দির নিয়ে আপনার কী বক্তব্য? যেন আর কোনও কাজ নেই। একটাই কাজ। আমি বললাম, ধর্ম যার যার নিজের, উৎসব কিন্তু সবার। আমি সেই উৎসবে বিশেষ করি যা সবাইকে নিয়ে চলে”।
এদিন বিজেপির উদ্দেশে মমতা বলেন, “ভোটের আগে আপনারা গিমিক করছেন, করুন। আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু তা বলে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে অবহেলা করা কারও কাজ নয়”।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি ওয়াদা করে যাচ্ছি, শপথ করে যাচ্ছি, তৃণমূলের সরকার যতদিন থাকবে বাংলায় শিখ-খ্রীষ্টান, তফসিলি-আদিবাসীদের ভাগাভাগি হতে দেব না”।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটের উপর অনেকটাই নির্ভর করে। তবে এবার শুধুমাত্র সংখ্যালঘু ভোটই নয়, ধর্মনিরপেক্ষ ও হিন্দুদেরও সমর্থন পেতে চাইছেন মমতা। সেই কারণে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে তুঙ্গে আয়োজন করছেন বটে, কিন্তু বিজেপির রামমন্দিরের সঙ্গেও আবার নাম জড়াতে চাইছেন না।





