শুধুমাত্র রাজ্য বা দেশই নয়, বাংলার হুগলিতে তৈরি ইলেকট্রিক গাড়ি এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিদেশের মাটি। বেশ কিছু বছর ধরেই গোটা রাজ্যের ইলেকট্রিক বাহন প্রস্তুতকারক সংস্থা ও ডিলার ডিস্ট্রিবিউটারদের একই ছাদের তলায় আনার পরিকল্পনা চলছিল। অবশেষে তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
রাজ্যে বেঙ্গল ইলেকট্রিক ভেহিকল অ্যাসোসিয়েশনের সূচনা করলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। গতকাল, মঙ্গলবার চন্দননগরের রবীন্দ্র ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন সংগঠনের সূচনা করা হয়। পরিবহণ মন্ত্রী ছাড়াও এদিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল, সংগঠনের সম্পাদক সেক নাসিরউদ্দিন, সভাপতি দীনেশ জালান। ছিলেন রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে আসা চার শতাধিক ইলেক্ট্রিক বাহন প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধার এবং ডিলার ডিস্ট্রিবিউটর।
এদিন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, “ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়ছে। তাই উন্নয়নের সংজ্ঞাও পাল্টেছে। বর্তমানে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন করতে হয়। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে ভারতের মধ্যে ইলেক্ট্রিক বাহন কেনার ক্ষেত্রে এক নম্বরে এই রাজ্য”। এদিন পরিবহণ মন্ত্রী জানান, এই শিল্পকে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই ইলেকট্রিক ভেহিকলের ফলে একাধিক বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এই বিষয়ে সংগঠনের সম্পাদক শেখ নাসিরুউদ্দিন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর শিল্পবান্ধব মানসিকতার কাঙ্খিত সুফল মিলছে। রাজ্য সড়ক জাতীয় সড়ক সংলগ্ন একাধিক জায়গায় ছোট বড় নানান শিল্প হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে। আমাদের তরফে শুরু হয় পরিবেশ বান্ধব ইলেকট্রিক বাহন উৎপাদক সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা। অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে গত দশ বছর আগে নেওয়া সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় বর্তমানে বড় চেহারা নিয়েছে”।
তাঁর কথায়, বর্তমানে রাজ্যে মোটামুটি চল্লিশটি ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থা রয়েছে। রাজ্যে প্রায় চারশোর বেশি ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটার রয়েছে। এই শিল্প থেকে গত বছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশে ঘানার মাটিতে এখন আধিপত্য বাংলার টোটোর।






