৫০০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে আজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে রামলালার। এদিন অযোধ্যার রামমন্দিরের গর্ভগৃহে বসে নিষ্ঠাভরে পুজো করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন পুজো শেষে মাটিতে শুয়ে রামলালার মূর্তির সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী। রামমন্দিরের জন্য কার্যত তপস্যা করেছেন মোদী, এমনটাই জানালেন গোবিন্দ গিরি মহারাজ।
কী বললেন গোবিন্দ গিরি মহারাজ?
রামমন্দির উদ্বোধনের আগে দেশের নানান প্রান্তের তীর্থক্ষেত্রে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর গোবিন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “এটা শুধুমাত্র একটি মূর্তি প্রতিষ্ঠাই নয়, গোটা দেশের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এই মন্দির”।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘মহাপুরুষ’ বলে উল্লেখ করেন গোবিন্দ গিরি মহারাজ। তাঁর কথায়, “একজন মহাপুরুষ থাকেন, যাঁর জন্য যুগ পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনের জন্য সাধনা করতে হয়। মহারাজ আরও বলেন, আজ এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে ভারত, যা শুধু গোটা দেশের নয়, গোটা বিশ্বের সৌভাগ্য”।
১১ দিন উপবাস করেন মোদী
মহারাজ জানান, মন্দিরের উদ্বোধনের ২০ দিন আগে তাঁর কাছে খবর যায় যে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে সিদ্ধ করতে চান প্রধানমন্ত্রী। এর জন্য কী নিয়ম করতে হবে, তা জানাতে বলা হয়। জানা গিয়েছে, গোবিন্দ গিরি মহারাজ বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ৩ দিন উপবাস করতে হবে। তবে মোদী ১১ দিন উপবাস করেন। তিনদিন মাটিতে শুতে বলা হয়েছিল। এই ঠাণ্ডার মধ্যেও ১১ দিন মাটিতে শুয়েছেন তিনি। ট্রাস্টের তরফে বলা হয়েছিল মোদী একবেলা অন্ন খেতে পারবেন, কিন্তু মোদী ১১ দিন অন্নই গ্রহণ করেন নি বলে জানান গোবিন্দ গিরি মহারাজ।
এদিন মোদী সম্পর্কে যোগী মহারাজ বলেন, সবথেকে বড় তপস্যা হল অনশন। মোদীর মতো এমন তপস্যীকে রাষ্ট্রনেতা হিসেবে পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে ছত্রপতি শিবাজীর তুলনা করেন মহারাজ। বলেন, “অনেকেই জানেন না তিন দিন শিবের মন্দিরে থেকে শিবাজী বলেছিলেন তিনি সন্ন্যাস নিতে চান। তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। আর যিনি প্রধানমন্ত্রী, তাঁকে ভগবান হিমালয় থেকে ভারত মাতার সেবা করার জন্য পাঠিয়েছেন”।
পুজো শেষে কী বললেন মোদী?
এদিন প্রাণ প্রতিষ্ঠার পুজো শেষে মোদী বলেন, “কয়েক শতাব্দী পর আমাদের প্রভু রাম ফিরে এলেন। আমার অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আবেগে কন্ঠ অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা পবিত্রতম সময়। প্রভু রাম আমাদের আশীর্বাদ করছেন। আজকের সূর্য এক অদ্ভুত আভা নিয়ে এসেছে। ২২ জানুয়ারি ২০২৪ কোনও তারিখ নয়, এটা নয়া কালচক্রের সূচনা। হাজার বছর পরও মানুষ এই দিনের কথা বলবে। এক সময় কিছু লোক বলত, রাম মন্দির তৈরি হলে দেশে আগুন লেগে যাবে। এরা ভারতের সামাজিক ভাবের পবিত্রতাকে জানত পারেননি। রামলালার এই মন্দির নির্মাণ, ভারতীয় সমাজের শান্তি, ধৈর্য, সদ্ভাবের প্রতীক। এই নির্মাণ কোনও আগুন নয়, আশার জন্ম দিচ্ছে। আমি আজ ওই লোকদের বলব, নিজেদের ভাবনা ফের বিবেচনা করে দেখুন। উপলব্ধি করুন, রাম বিবাদ নয়, রাম সমাধান। রাম আগুন নয়, রাম আশা। রাম শুধু বর্তমান নয়, রাম চিরন্তন”।






