জ্যোতিষ শাস্ত্রে শনির মাহাত্ম্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। বড়ঠাকুরের নাম শুনলেই ভয় পান অনেকেই। জ্যোতিষ শাস্ত্রে অনুযায়ী, আড়াই বছরে একবার রাশি পরিবর্তন করে শনি। এ সময়ে শনির প্রভাবে নানান রাশিতে সাড়েসাতি ও আড়াই শুরু হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদান করেন শনিদেব। শনি শুভ দৃষ্টিতে যেমন ব্যক্তি রাজার হালে থাকেন, তেমনই আবার শনির বক্র দৃষ্টি রাজাকেও ভিখারি করতে পারে। শনি কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদান করে, তাই ভালো কাজ করলে ভালো ফল মেলে। কিন্তু কোনও ভুলচুক করলে কিন্তু ক্ষমা করেন না শনিদেব। শাস্ত্র মতে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা শনিকে খুবই ক্ষিপ্ত করে তোলে।
সেই কাজগুলি কী কী, জেনে নিন-
- কখনই বয়স্ক, শিশু, দিব্যাঙ্গ, শ্রমিক, সাফাই কর্মচারীদের অপমান করবেন না। তাদের নিয়ে কখনও কোনও ঠাট্টাও করবেন না। এমন কাজ করলে শনির রেগে যান।
- যারা মহিলাদের অপমান করেন, তাঁদের অপছন্দ করেন শনিদেব। অসহায়, বয়স্ক, বিধবা মহিলাদের অপমান করলে শনি সেই ব্যক্তিকে কখনও ক্ষমা করেন না।
- যারা কোনও অসহায়, দরিদ্রদের শোষণ করেন, লোককে ঠকিয়ে কারোর সম্পত্তি দখল করেন, সেই সব লোভী মানুষরা শনির রোষের মুখে পড়েন।
- যারা আবার কুকুর, পাখি, মুক ব্যক্তিদের কষ্ট দেন, তারা শনির রোষের মুখে পড়েন। এমন ব্যক্তি জীবনের কোনও না-কোনও সময়ে প্রচুর কষ্ট উপভোগ করেন।
- যে ব্যক্তিরা নেশা করেন, কুসঙ্গে জড়ান, অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকেন, তারা বড়ঠাকুরের রোষ থেকে বাঁচতে পারেন না।
শনিকে খুশি করার উপায়
- শনির রোষের কারণে জীবনে নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই প্রতি শনিবার সকালে স্নানের পর শনি যন্ত্রের পুজো করুন।
- শনিকে খুশি করতে দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করুন। কালো ছোলা, কালো তিল, বিউলির ডাল, পোশাক দান করলে খুশি হন শনিদেব।
- প্রাণীর প্রতি সদ্ভাব রাখলে খুশি হবেন বড়ঠাকুর। বিশেষত কালো কুকুরের সেবা করলে, তাদের রুটি খাওয়ালে শনির রোষ থেকে মুক্তি মেলে।





