কিছুদিন আগেই মমতা শঙ্করের মন্তব্যে তোলপাড় হয়েছিল গোটা সোশ্যাল মিডিয়া। নারীদের সাজ পোশাক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যৌনকর্মীদের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তাতেই ট্রোলড হন তিনি। আধুনিক মহিলাদের শাড়ি পরার ঢং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি শাড়ি পরব কিন্তু আঁচলটা জায়গা মতো থাকবে না, এটা ভাবনাটা বুঝতে পারি না। ক্ষমা করবেন, এটা বলছি বলে যাঁদের আমরা রাস্তার মেয়ে বলতাম, যাঁরা ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে এমন মেয়ে বলতাম, তাঁরা এইরকম ভাবে দাঁড়াত। কিংবা গ্রামে কাজ করতে গিয়ে আঁচল সরে গেল সেটা দোষের ছিল না। এঁরা মানুষকে অ্যাট্রাক্ট করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন, এটা তাঁদের পেশা, আমি তাঁদেরও শ্রদ্ধা করছি।’
এ প্রসঙ্গে অনেকেই অভিনেত্রীর স্বপক্ষে কথা বলেছেন। আবার অনেকেই এই কথার বিরোধিতা করেছেন। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় মমতা শঙ্করের শাড়ি পরার ধরন কথার বিরোধিতা করেছিলেন। সমস্ত ট্রোলের শিকার হয়েও নিজের মন্তব্যে অনড় ছিলেন মমতা শঙ্কর। তার কথায় ‘আমার কিচ্ছু গায়ে লাগছে না। এত লোক আমাকে সাপোর্ট করেছেন,তাই আমি ওসব ভাবছি না। যারা ওইরকম ভাষা দিয়ে ওইরকম ভাবে আমাকে ট্রোল করেছেন। তাঁরা নিজেদের ছোট করলেন আর কিছু নয়।’ মমতা শঙ্কর দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সব্বাইকে বলব, আমার কথাটা আরেকবার শুনুন। তাঁদেরকে (যৌন কর্মীদের) কীভাবে শ্রদ্ধা দিয়ে বলেছি শুনুন। আশা করি তাহলে আমাকে ভুল বুঝবেন না।’
মমতা শঙ্করের বক্তব্যকে বিরোধিতা করেছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। মমতা শঙ্করের কথাকে ব্যঙ্গ করে একটি ছবি আঁকেন এক ব্যক্তি। ছবিতে দেখানো হয়, একজন মহিলা ল্যাম্প পোস্টের নিচে শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে, উন্মুক্ত তাঁর বক্ষবিভাজিকা। সেই ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা।
শুধু ছবিটি শেয়ার করেই থামেননি তিনি। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় লেখেন, ‘আমিও এরকম একটা ছবি তুলব, ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়ানো খারাপ মেয়েগুলোকে উৎসর্গ করে। শাড়ির আঁচলেই কিনা সব সম্মান লুকিয়ে আছে যদি ওরাও জানত। আমার বন্ধু ফটোগ্রাফাররা একটু হাত খালি হলে জানিও।’
মমতা শঙ্করের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে বহু অভিনেত্রী তার সমর্থনে বা বিপক্ষে কথা বলেছেন। এবার মমতা শঙ্করের বক্তব্যকে উক্তি করেই কথা বলেছেন অপরাজিতা আঢ্য। তিনি বলছেন, “এই ঘটনাটা শুনলেও সঠিক ব্যাপারটা আমি জানিনা। তবে আমার মনে হয় পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা মানুষের নিজের ওপর, নিজের কনফিডেন্সের ওপরে। প্রত্যেকটা মানুষের নিজের কনফিডেন্সের ওপরে তার জামা কাপড় নির্ভর করে। যার কনফিডেন্স থাকবে, সেখানে তো কিছু বলার নেই। আজ আমি যে শাড়িটা পরব আমার মা সেটা পরতেন না, আমার মায়ের কনফিডেন্স ছিল না। সে বলতেন, ‘আমার ভারী লাগছে, গরম লাগছে’ খুব স্বাভাবিক। পোশাক মানুষের কনফিডেন্সের ওপর। সে কোন জায়গায় আছে, কী পরিস্থিতিতে আছে, কী কাজ করছে তার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং সেরকম ভাবেই তারা পোশাক পরে, আমিও তাই”।





