“সবকিছু শুরু হয় ঘর থেকেই, বাবারা চিৎকার করবে আর মায়েরা চুপ থাকবে কেন?” বাবা-মায়ের সম্পর্কই শিশুর মানসিক গঠনের মূল! জন্মদিনে মুখ খুললেন ‘মারদানি’ রানী মুখোপাধ্যায়!

বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী রানী মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি তাঁর ৩০ বছরের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন উদযাপন করেছেন, বিশেষ করে ‘মারদানি ৩’ সিনেমার মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিঙ্গ সমতার পক্ষপাতী এবং সমাজে নারীর মর্যাদা নিয়ে সক্রিয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানী পরিবারে নারীর সম্মান এবং সন্তানদের মানসিক গঠনের ওপর তার প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সম্মান শুরু হয় বাড়ি থেকেই। ছেলে যখন মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখে, তখন সে ভাবতে শেখে অন্য নারীর সাথেও এমন আচরণ করা যাবে।”

রানী আরও বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্ক কিভাবে পরিচালিত হয়, তা সন্তানের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “বাবারা বাড়িতে তাদের স্ত্রীদের প্রতি কেমন আচরণ করেন, সেটিই সন্তানের মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে। মায়ের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করলে ছেলেরা বুঝবে সমাজে নারীরও সেই মর্যাদা থাকা উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য অনেকেই প্রশংসা করেছেন কারণ এটি পরিবার ও সমাজে সমতার গুরুত্ব বোঝায়। রানীর মত অনুযায়ী, ছোট ছোট কাজ, যেমন চিৎকার বা তর্ক, বাড়িতে হওয়া উচিত নয়।

তবে, রানীর পরবর্তী মন্তব্য কিছুটা বিতর্কিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “সবকিছু শুরু হয় ঘর থেকেই। বাবা-মায়ের মধ্যে শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন। মায়ের প্রতি বাবার আচরণ শিশুর মনোবিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলে।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্যের ওপর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তাঁর স্পষ্টভাষিতা পছন্দ করেছেন, আবার অনেকে কিছু বক্তব্যকে অস্বস্তিকর ও ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব বলে মনে করেছেন।

সাক্ষাৎকারে রানী তাঁর স্কুল জীবনের এক ঘটনা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “আমি একবার স্কুলে একটি ছেলেকে চড় মেরেছিলাম, বাকি ছেলেরা আমার বন্ধু ছিল। আর বাড়িতেও, শুধু আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করুন, কী ঘটে।” এই খোলামেলা অভিজ্ঞতা নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দেয়। রেডিটসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, মজার ছলে করা মন্তব্যও ভুলভাবে নেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ “নারী নিরাপত্তা আজ তলানিতে…নরেন্দ্র মোদি দাদা সব মেয়ের ভাই, উনি এসেই হাল ফিরাবেন!” আসন্ন বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী হওয়ার পরই, নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন পাপিয়া অধিকারী!

শেষে রানী তাঁর মেয়ে আদিরার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি হালকা ছলে বলেন, “আমার মেয়েও আমাকে নির্দেশ দেয়। সে জেনারেল আলফা, তাই আমাকে তার কথা শুনতে হয়।” সব মিলিয়ে রানী মুখোপাধ্যায় আবার প্রমাণ করেছেন, তাঁর স্পষ্টভাষিতা যেমন প্রশংসিত হয়, তেমনি তা বিতর্কও সৃষ্টি করে। তিনি পরিবার, সমাজ ও নারীর মর্যাদা নিয়ে যে সচেতনতা দেখান, তা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles