‘সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের কথাই শোনা উচিত, প্রেম তো যে কোনও বয়সেই হতে পারে’, অপরাজিতার মনে উঁকি দিচ্ছে নাকি নতুন প্রেম?

টলিপাড়ায় অপরাজিতা আঢ্যকে (Aparajita Auddy) প্রায় সকলেই চেনেন। বাংলা টেলিভিশনের আদর্শ মা তিনি। কখনও জন্মদাত্রী আবার কখনও পালিতা মা হিসাবে দর্শকদের নজর কেড়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। বর্তমানে ‘জল থৈ থৈ ভালোবাসা’ কোজাগরীর চরিত্রে অপরাজিতা আঢ্যর রূপে মুগ্ধ দর্শকরা। শুধুমাত্র ধারাবাহিক নয় বহু সিনেমায় মায়ের ভূমিকা অভিনয় করেছেন তিনি। চিনি, একান্নবর্তী মত ছবিতে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে অনুরাগীদের মন জয় করেছেন।

তীব্র দাবদাহে দাপিয়ে অভিনয় করে বেড়াচ্ছেন অভিনেত্রী। চলছে আউটডোর শুটিংও। কিভাবে সবকিছু ম্যানেজ করছেন অপরাজিতা (Aparajita Auddy)। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানাচ্ছেন, “শটের মধ্যে গরমটাকে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। হয়তো ঘাম হচ্ছে সেটাকে কাপড়ের আঁচল দিয়ে আমি মুছে নিলাম সেটা শটের একটু দৃশ্য হল তাহলে বারবার শটটা কাট করতে হলো না। আমার তো মেকাপ উঠে যাওয়ার ভয়ে থাকে না, তেমন মেকআপ করিও না।”

আগামী ২৬ শে এপ্রিল বড় পর্দায় আসতে চলেছে ‘এটা আমাদের গল্প’ সিনেমাটি। যেখানে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে অপরাজিতাকে (Aparajita Auddy)। তবে এই সিনেমা করতে প্রথমে নাকি রাজি হননি তিনি। গল্প পছন্দ হলেও কিসে বাধ সাজছিল অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিজেই। অভিনেত্রী (Aparajita Auddy) বলেন, “সিনেমাটি করতে আমি একেবারেই রাজি হয়নি তবে গল্পটি আমার খুব ভালো লেগেছিল। যে চরিত্রে আমি অভিনয় করছি সেই চরিত্রটি আমি এখনো অনেক বছর করতে পারব তার জন্য আমি ভেবেছিলাম যে এটা এখন না করলেও হবে বা আমার ফেস এর সাথে চরিত্রটা ঠিকভাবে যাবে না। ‌এমনিতেই আমি ২৩ বছর বয়স থেকে মায়ের অভিনয় করি। আমি প্রথম থেকেই মায়ের অভিনয় করে এসেছি তবে এর জন্য আমার কোন রিজার্ভেশন নেই”।

‘এটা আমাদের গল্প’ সিনেমাটি যে প্রেক্ষাপটে নিয়ে তৈরি হয়েছে সেটা এখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপট। অপরাজিতা (Aparajita Auddy) বলছেন, “এখন মানুষ খুব একা হয়ে যায়। বাবা-মা শেখা তো আমরা তোমাকে করছি, তোমাকে আমাদের করতে হবে। এখন সবাই বলে আমাকে তোমারটা দেখতে হবেনা তুমি তোমার টা দেখো, এতে মানুষ আরো বেশি একা হয়ে যায়।”

সিনেমার গল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপরাজিতা (Aparajita Auddy) জানান, “যদি একটা মহিলার কম বয়সের সব দায়িত্ব সম্পূর্ণ হয়ে গেল ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেল তাদের ছেলেমেয়ে হয়ে গেল, পরেও আমার জীবনটা বাঁচতে ইচ্ছা করে তখন সে কি করবে। কিন্তু তখন অনেক লিমিটেশন চলে আসে বলে মনে হয় যে এটা কি ঠিক হবে, তখন সে কি করবে। এটা নিয়েই এই সিনেমার গল্প। গল্পটি খুব ইন্সপায়ারিং।” অভিনেত্রী মনে করেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় নিজের কথাটাই শোনা উচিত। তাতে ভুল হলেও কাউকে দোষ দেওয়া যায় না ঠিক হলে তো নিজেরই।

এই ছবিতে অভিনয় করার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এই ছবিতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অভিনয় করছেন। অপরাজিতার (Aparajita Auddy) ভীষণ পছন্দের একজন অভিনেতা শাশ্বত। তিনি বলছেন, “অনুসূয়া দি ফ্লোরে কাজ করলে আমি কখনো ফ্লোর থেকে বেরোই না আমি দেখি তার অভিনয়। এমন কিছু অভিনেতা অভিনেত্রী আছে যাদের সাথে কাজ করার সুযোগ আমি কখনো ছাড়তে চাই না। তার মধ্যে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় একজন। তাই আমি শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের সাথে যতবার সিনেমার সুযোগ এসেছে ততবার আমি রাজি হয়েছি।”

RELATED Articles