উত্তম কুমারের নায়িকা হিসেবে খ্যাতি, সুযোগ পেলে হতে পারতেন মহানায়িকাও, বিয়ের পর অভিনয়ে ইতি, কোথায় হারিয়ে গেলেন স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী আরতি ভট্টাচার্য?

৮ ই নভেম্বর ১৯৮১ সালে জামশেদপুরে জন্মগ্রহণ করেন আরতি ভট্টাচার্য (Arati Bhattacharya)। কলেজে পড়াকালীন অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মায়ের হাত ধরে মামার বাড়ি চুঁচুড়াতে এসেছিলেন। এরপর সেখান থেকে টলিপাড়ায় যাতায়াত শুরু। প্রডিউসর থেকে পরিচালকদের কাছে অভিনয়ের সুযোগ চাওয়া। জামশেদপুরে জন্মগ্রহণের জন্য বাংলা কথাবার্তায় আরতি ভট্টাচার্যের একটা আড়ষ্টতা ছিল। তাই ছবিতে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু হিন্দি আর ইংরেজিতে তিনি ছিলেন তুখোর।

হিন্দি ছবিতে কাজ পেতে অসুবিধা হল না। বোম্বে থেকে হেনরি ছবির‌‌ এক পরিচালক এসে আরতি ভট্টাচার্যকে (Arati Bhattacharya) নায়িকা করলেন। স্বপ্ন বাস্তবের রূপান্তরিত হতে দেখে আনন্দিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ভাগ্য সাথ দেয়নি। কদিন শুটিং করার পর শুটিং বন্ধ করে বোম্বের প্রযোজক তার টিম নিয়ে ফিরে গেলেন। ‌ ছবিটির নাম ছিল রেওয়াজ। সে সময় আরতী ভট্টাচার্যের (Arati Bhattacharya) স্বপ্ন পূরণ হল না।

অনেক কষ্ট করে একটা হিন্দি ছবিতে কাজ পেয়েছিলেন, ভেবেছিলেন এই কাজের পর সবাই চিনবে তাকে। কাজ পেতে আর অসুবিধা হবে না। তাই মন প্রাণ দিয়ে কাজ করেছিলেন, কিন্তু সবই বিফলে গেল। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন ধাক্কা পেয়ে পিছিয়ে যাননি তিনি। এরপরই আরতি ভট্টাচার্য (Arati Bhattacharya) পেলেন বাংলা নাটকে কাজের সুযোগ। অভিনেতা সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় নহবত নামের একটি নাটক করবেন বলে ঠিক করেন। নায়িকার চরিত্রের জন্য মেয়ে খুঁজছেন। তখন তিনি পেয়ে গেলেন আর আরতি ভট্টাচার্যকে (Arati Bhattacharya)। বাংলা ভাষায় যেটুকু আরষ্টতা ছিল সেটুকু কাটাতে সাবিত্রী ভট্টাচার্যের কাছে পাঠানো হয়।

নাটক হিসেবে নহবত মাইলস্টোন হল। সকলের নজরে এলেন নায়িকা আরতি ভট্টাচার্য‌ (Arati Bhattacharya)। নাটক থেকেই এল চলচ্চিত্র কাজের সুযোগ। মৃণাল সেন তখন ‘এক আধুরি কাহানি’-এর জন্য হিন্দিভাষীর ডাকাবুকো মেয়ে খুঁজছেন। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মৃণাল সেনের কাছে পাঠিয়ে দিলেন আরতী ভট্টাচার্যকে (Arati Bhattacharya)। মৃণাল সেনের ছবি ডাবিং দেখতে গিয়েছিলেন পরিচালক শলীল ভট্টাচার্য। এখানে আরতী দেবীর অভিনয় দেখে তারও ভালো লেগে যায়। একই সাথে উত্তম কুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নায়িকা হয়ে গেলেন স্ত্রী ছবিতে।

Arati Bhattacharya, Actress, industry, film, আরতি ভট্টাচার্য,‌ইন্ডাস্ট্রি, স্ক্রিপ্ট

‘এক আধুরি কাহানি’ ছবিটি আগে তৈরি হয়ে গেলেও, স্ত্রী ছবিটি তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি। এখানে অল দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছিলেন আরতি ভট্টাচার্য। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি‌। মুক্তি পেতে থাকল পিকনিক, সখা, জাল সন্ন্যাসী, নন্দিতা, হারমোনিয়াম, আনন্দমেলা প্রেয়সী বহু ছবি ‌। ১৯৭২ থেকে ৮২ এই ১০ বছর আরতি ভট্টাচার্যের কর্মজীবন। এই দশ বছরে তিনি ৪০টিরও বেশি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৮ সালের ধারাবাহিক চিকিৎসা সংকটে শেষবার কাজ করেছিলেন আরতি ভট্টাচার্য (Arati Bhattacharya)

এখন ৭২ বছর বয়সে, আর অভিনয় করেন না আরতি ভট্টাচার্য (Arati Bhattacharya)। স্ক্রিপ্ট লেখেন, পরিচালনা করেন হিন্দি ও ভোজপুরি ছবির জগতে। ১৯৮২ সালে ভালবেসে ভোজপুরি ছবির নায়ক কুনাল সিংকে বিয়ে করার পাশাপাশি তিনি বেছে নিয়েছিলেন লেখালেখির কাজ, ক্যামেরার পিছনের জগত। সে জগতে আজও তিনি স্বমহিমায় কাজ করে চলেছেন।

RELATED Articles