‘সাদামাটা’ অরিজিৎ নাকি কোটি টাকার গায়ক? রবীন্দ্রসঙ্গীতের জন্য বিপুল অঙ্ক চাওয়ায় বিতর্ক!

অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)শুধু নামটাই যথেষ্ট। এড শিরান থেকে মার্টিন গ্যারিক্স, বলিউড থেকে টলিউড—গোটা বিশ্বে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু শুধুমাত্র গান নয়, অরিজিতের সাদামাটা জীবনযাপনও তাঁকে আরও প্রিয় করেছে ভক্তদের কাছে। বিলাসবহুল গাড়ি বা চমকপ্রদ পোশাক নয়, বরং এক সাধারণ স্কুটার চালিয়ে জঙ্গিপুরের রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় তাঁকে। গ্রামের ছোটখাটো অনুষ্ঠানেও গান করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন—সব মিলিয়ে একেবারে মাটির মানুষ। এই কারণেই অগণিত মানুষ তাঁকে এত ভালোবাসেন। কিন্তু এবার সেই ‘সাদামাটা’ ইমেজের সঙ্গেই যেন মেলাতে পারলেন না বাবুল সুপ্রিয়!

বাবুল নিজেও একজন জনপ্রিয় গায়ক, পাশাপাশি তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী। সংগীত জগতের নানা কাজে যুক্ত থাকেন তিনি। সম্প্রতি তাঁরই তত্ত্বাবধানে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে ছয়টি রবীন্দ্রসঙ্গীত। মুম্বইয়ের এক নামী অডিও সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে। বলিউডের জনপ্রিয় লিরিসিস্ট অমিতাভ ভট্টাচার্য এই অনুবাদের দায়িত্বে রয়েছেন, আর রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গানগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ইতিমধ্যে এই অ্যালবামের জন্য শ্রেয়া ঘোষাল, শান, মধুমন্তী বাগচী, এমনকি বাবুল সুপ্রিয় নিজেও গান রেকর্ড করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল অরিজিৎ সিং। তাঁর গাওয়া দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছিল। কিন্তু এখানেই বাধল গন্ডগোল!

এই প্রকল্প বাণিজ্যিক নয়, বরং রবীন্দ্রসঙ্গীতের ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য। ফলে শিল্পীরাও তাঁদের স্বাভাবিক পারিশ্রমিকের তুলনায় অনেকটাই কম পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। কিন্তু যখন অরিজিৎ সিংয়ের পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ এল, তখনই হতবাক বাবুল! কারণ, অরিজিতের সচিবের তরফে জানানো হয়, প্রতিটি গানের জন্য দেড় কোটি টাকা করে দিতে হবে! যেখানে অন্যান্য শিল্পীরা অনুরাগ ও সম্মানের খাতিরে স্বল্প পারিশ্রমিকে গান করছেন, সেখানে এই চাহিদা সকলকেই অবাক করেছে।

বাবুল সুপ্রিয় প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, “এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য একেবারেই ব্যবসায়িক নয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূল সুর ও ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে হিন্দিতে অনুবাদ করা হচ্ছে। এখানে কেউই পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবেননি। তাই যখন শুনলাম অরিজিৎ একেকটা গানের জন্য দেড় কোটি টাকা চাইছে, সত্যি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম!” তাঁর আরও বক্তব্য, “আমরা তো জানি, অরিজিৎ খুব সাধারণ জীবনযাপন করে। স্কুটারে চড়ে ঘোরে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকে। তাহলে হঠাৎ রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গিয়ে এমন কী হল, যে এত বড় অঙ্ক চাইতে হল?”

আরও পড়ুনঃ শ্বশুরের বিরুদ্ধে সাক্ষী জামাই! পার্থর দুর্নীতির গোপন তথ্য ফাঁসের পথে কল্যাণময়?

যদিও এই প্রসঙ্গে অরিজিৎ এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছেন, তিনি এখনো চাইছেন অরিজিৎ এই প্রকল্পে থাকুন। কারণ, যে দুটি গান তাঁর জন্য ভাবা হয়েছিল, সেখানে তাঁর কণ্ঠ ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারছেন না। তবে শিল্পীর তরফে যদি কোনও পরিবর্তন না আসে, তাহলে বিকল্প ভাবতেই হবে। এই প্রসঙ্গে সংগীত মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে সত্যিই কি অরিজিৎ এই টাকা চেয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় সংগীতপ্রেমীরা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles