অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে শোকের ছায়া। চলতি বছরেই করোনার জেরে মৃত্যু হয়েছে তাঁর এক তুতো দাদার। এই কারণে পুজো নিয়ে সব মাতামাতি, উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন অভিনেতা, সঙ্গে তাঁর পরিবারও। কিন্তু মা যে আসছেন, তাঁর বন্দনা তো করতেই হবে। তাই এই বছর কোনও রকম আড়ম্বর ছাড়াই শুধুমাত্র মায়ের পুজোটাই হবে ভাস্বরের দেশের বাড়িতে।
অভিনেতার কথায়, দেশের বাড়ির পুজোতে তাঁর সেই দাদারই সবথেকে বেশি উৎসাহ ও খাটাখাটনি থাকত। তাদের পরিবারও বেশ বড়। কেউ থাকেন দিল্লি, কেউ মোরাদাবাদ তো আবার কেউ আমেরিকাতে। গত বছর করোনা অতিমারির কারণে কেউ পুজোতে আসতে পারেননি। আর এ বছরও সেই একই পরিস্থিতি।
পুজোর কথা লিখতে গিয়ে বারবার ভাস্বরের চোখের সামনে তাঁর সেই দাদার ছবিই ভেসে ওঠে। তিনি জানান গত বছর কোনও আত্মীয় আসতে পারেননি বলে সকলে ভাস্বরকে বলেছিলেন পুজোর ঘর থেকে লাইভ করতে, সেই দেখেই অঞ্জলি দেন তারা। আর এই এক বছরের মধ্যেই সব যেন কেমন উলটপালট হয়ে গেল অভিনেতার পরিবারে। এই পুজোয় তেমন লোকজন নেই। কলকাতা অভিনেতা ও তাঁর বাবা যাবেন।
ইদের সময় তাঁর কাশ্মীরি বন্ধুদের সঙ্গে রোজা রেখেছিলেন অভিনেতা। সে নিয়ে অবশ্য কম জলঘোলা হয়নি। এবারের পুজোতে তাঁর সেই কাশ্মীরি বন্ধুদের আসার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারে এমন এক ঘটনা ঘটায় সকলেই বলেছেন যে পরের বছর আসবেন।
তবে এরই মধ্যে ভাস্বর দেখেন যে তাঁর এক কাশ্মীরি ভাই লাল সিল্কে জড়ির কাজ করে ভারী সুন্দর একটি কাশ্মীরি শাড়ি নিজের হাতে তৈরি করেছেন। শাড়িটি ভীষণ পছন্দ হওয়ায় অভিনেতা ঠিক করেন এই শাড়িটি দিয়েই তাঁর বাড়ির দুর্গা মা পুজোয় সেজে উঠবেন। অভিনেতার মতে, এটাও তো একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।

ভাস্বরের বাড়িতে দুর্গাপুজোর চারদিন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাওয়াদাওয়া। নিরামিষের এত সুন্দর সুন্দর সুস্বাদু খাবার থাকে যে আমিষ ছুঁতে নাকি তাঁর ইচ্ছাই করে না। এ বছরও সব নিয়মই পালন হবে তবে তাদের মধ্যে একজন আর থাকবেন না। এ নিয়ে অভিনেতারও মন বেশ খারাপ।
অন্যান্য বছরের মতোই জোড় পরেই অষ্টমীর অঞ্জলি দেবেন অভিনেতা। নতুন জামাকাপড় পরবেন শুধুমাত্র ষষ্ঠীর দিন তাঁর মায়ের কথা রেখে। কারণ তাঁর মা বলতেন ষষ্ঠীর দিন নাকি নতুন পোশাক পরতেই হয়। অভিনেতার বাবারও মন সায় দিচ্ছে না কোনও কেনাকাটাতেই। কোনও কিছু কেনার কথা বললেই তিনি নাকি বেশ ভারী গলাতেই বলছেন, “এবারটা থাক। আসছে বছর আবার হবে”।





