“ওর নিথ’র দে’হ দেখে মনে হচ্ছিল…” চার বছর পরেও অমলিন স্মৃতি! কেকে-কে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণে সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়!

কেকে চলে গিয়েছেন চার বছর আগে, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আজও অমলিন সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মনে। সম্প্রতি এক আবেগঘন স্মৃতিচারণে তিনি ফিরে গেলেন প্রায় তিন দশক আগের সেই দিনে, যখন প্রথমবার কেকে-র সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল একটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল রেকর্ডিংয়ে। সাধারণ পোশাকে, বিনয়ী আচরণে স্টুডিয়োয় ঢুকে গান শুনতে চেয়েছিলেন কেকে। সেই প্রথম আলাপ থেকেই জিৎ বুঝেছিলেন, তিনি শুধু একজন অসাধারণ শিল্পী নন, একজন অসাধারণ মানুষও। তাঁর মতে, এত বড় মাপের শিল্পী হয়েও কেকে কখনও তারকাসুলভ আচরণ করেননি।

জিৎ জানান, কেকে-র সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর সহজ সরল স্বভাব এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা। কাজের জায়গায় তিনি সবসময় প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করতেন। অন্ধেরীর সেই স্টুডিয়োয় কাটানো মুহূর্তগুলো এখনও তাঁর চোখে ভাসে। বছরের পর বছর একসঙ্গে কাজ করতে করতে তাঁদের সম্পর্ক শুধু সহকর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিল। তাই ২০২২ সালের ৩১ মে কেকে-র মৃত্যুসংবাদ তাঁর কাছে শুধুই একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, বরং একজন কাছের বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা হয়ে ধরা দিয়েছিল।

কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে আসার কয়েকদিন আগেও কেকে-র সঙ্গে কথা হয়েছিল জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। একটি নতুন গান নিয়ে আলোচনা চলছিল তাঁদের মধ্যে। পরিকল্পনা ছিল, অনুষ্ঠান শেষ করে কলকাতায় কয়েকদিন থাকবেন কেকে, তারপর বসে বিস্তারিত কথা হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ওই দিন রাতে এক বন্ধুর রেস্তরাঁয় থাকা অবস্থাতেই কেকে-র ঘনিষ্ঠ সহকারীর ফোন পান জিৎ। ফোনের ওপার থেকে কান্নার শব্দ শুনেই তিনি বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারেন, তাঁর প্রিয় বন্ধু আর নেই।

আরও পড়ুন: প্রযোজক হিসেবে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ৪৮ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ডিগবাজি ‘তারকাটা’ প্রযোজক, অভিনেতা বিক্রম চ্যাটার্জীর

খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যান জিৎ এবং তাঁর স্ত্রী। সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য তিনি দেখেছিলেন, তা আজও ভুলতে পারেননি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা কেকে-কে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, যেন একটু পরেই উঠে দাঁড়িয়ে আবার গান গাইতে শুরু করবেন। সেই মুহূর্তের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, একজন এত প্রাণবন্ত মানুষকে নিথর অবস্থায় দেখে নিজেকে সামলে রাখা অসম্ভব ছিল। সেই রাত তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটি হয়ে রয়েছে।

স্মৃতির ভাঁড়ার খুলতে গিয়ে জিৎ আরও একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ‘সড়ক ২’ ছবির একটি গানের রেকর্ডিংয়ের সময় তাঁর বাবা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কঠিন সেই সময়ে কেকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বন্ধুর মতো। রেকর্ডিং চলাকালীন বারবার তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন, গান নিয়ে মতামত জানতে চেয়েছেন এবং তাঁর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন। জিৎ মনে করেন, কেকে শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। সময় যতই এগিয়ে যাক, বন্ধুর সঙ্গে কাটানো সেই স্মৃতিগুলো তাঁর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

আরও অন্যান্য খবর