প্রাচীন কলকাতার এক অন্যতম স্মৃতি বহন করে উত্তর কলকাতা, তথা নিউ মার্কেট চত্বর। কলকাতার নস্টালজিয়া যেন বেঁধে রেখেছে শহরের এক রূপকথাকে। কলকাতার বুকে এগিয়ে চলেছে প্রাচীন পানশালা শ ব্রাদার্স। পুরানো আমলের কলকাতার এক সুস্পষ্ট স্মৃতি বহন করছে এই পানশালা।
ইতিহাসের গন্ধ মেখে এই পা’নশালায় আসতেন ঋত্বিক ঘটক। প্রায় প্রতিদিনই চেনা ছন্দে দেখা যেত এই পরিচালককে।কখনও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কিতে ব্যস্ত থাকতেন, কখনও আবার হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে যেতেন এবং কিছুক্ষণ পরেই ফিরে এসে কোণঠাসা হয়ে বসে পড়তেন ১৫০ বছরের পুরোনো এই পা’নশালায়।
তবে শুধুমাত্রই এটি সুরাপ্রেমীদের পছন্দের আখড়া না,অফিসের মিটিং থেকে বন্ধুদের আড্ডা সব কিছুই চলে জমিয়ে। পুরানো দিনের কলকাতার নস্টালজিক ছবি যেন প্রতি মুহূর্তে ফুটে উঠেছে এই পা’নশালা জুড়ে।
কল্লোলিনী তিলোত্তমার বুকে যে পুরানো পা’নশালা গুলি আছে সেগুলির মধ্যে অন্যতম এসপ্ল্যানেডের মেট্রো গলির ভিতরে অবস্থিত এই পানশালা। এখনো বহু মানুষ তাদের অবসর যাপন করেন এখানে এসে। ১৮০০ সালের সময় ব্রিস্টল হোটেল’ ছিল এই বিল্ডিংটি। আধুনিকতার চাকচিক্য নেই বরং পুরানো কলকাতার আমেজ ধরে রেখেই এগিয়ে চলেছে এই পা’নশালা।

পা’নশালার কিছু নিয়ম আজও একই রকম ভাবে রয়ে গেছে।প্রতিদিন সন্ধ্যে ৬টা থেকে সোয়া ৬টা অবধি এখানে পরিষেবা বন্ধ থাকে কারণ তখন এই পা’নশালায় প্রাত্যহিক পুজো সারা হয়।পাশাপাশি এখানে অর্ডার করার সাথে সাথেই বিল মিটিয়ে দিতে হয়। পুনরায় অর্ডার করার সাথে সাথে আবার নতুন বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়।
পানীয় দাম ও খুবই সস্তা। খাবারের মধ্যে বেশ বৈচিত্র্য আছে।চিনাবাদাম থেকে শুরু করে নোনতা কাজুবাদাম, চিজ, চিলি চিকেন, কাসুন্দী সহযোগে ফিসফিঙ্গার, কাঁচালঙ্কা-পিঁয়াজ সহযোগে মটন লিভার ফ্রাই অথবা মটন ভেজা-ফ্রাই, অর্ডার করা যাবতীয় খাবার আনা হয় বাইরের দোকান থেকে।
এই পা’নশালার ঠিক সামনেই রয়েছে লেনিন সরণির ট্রামলাইন। প্রাচীন কলকাতার নস্টালজিয়া, বহু মানুষ, অফিস যাত্রীদের ভিড় নিয়ে সময়ের দাবি মেনে আজও এগিয়ে চলেছে ছোটা ব্রিস্টল (শ ব্রাদার্স)’।





