মনীষা কৈরালাকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ঠকিয়েছিলেন নানা পাটেকার! রোমাঞ্চকর এই তথ্য জানতেন?

বলিউড এক আশ্চর্য জগত। সিনেমার পর্দায় আমরা হরেক কিসিমের রোমাঞ্চকর গল্প শুনি কিন্তু বলিউডের রিয়েল লাইফের গল্প গুলো কিন্তু সিনেমার থেকে কম কিছু না। আপনারা কি জানেন যে মনীষা কৈরালা এবং নানা পাটেকার এর মধ্যে এক সময় তুমুল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল?

এই সম্পর্কে যেমন ছিল ভরপুর রোমান্স সেরকমই শেষের দিকে ছিল বিশ্বাসঘাতকতা। ১৯৯৬ সালে পার্থ ঘোষের থ্রিলার সিনেমা অগ্নি সাক্ষীর শুটিংয়ের সময়ই নাকি মন দেওয়া-নেওয়া করে ফেলেছিলেন নানা এবং মনীষা। তবে সেই সময় গোটা বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল কারণ নায়ক-নায়িকা দুজনেই বিষয়টিকে গোপন করে রেখেছিলেন।

এর আগে অভিনেতা বিবেক মুশরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মনীষার। তবে তা বেশিদিন টেঁকেনি।এই বিরহের মাঝেই মনীষার জীবনে চলে এসেছিলেন নানা পাটেকার। হিরোসুলভ লুক না থাকলেও নানা পাটেকার এর মধ্যে অন্য রকমের ক্যারিশমা ছিল যা সহজেই আকৃষ্ট করেছিল মনীষাকে।

এরপর সঞ্জয় লীলা বনশালির সিনেমা খামোশি তৈরির সময় থেকে নানা এবং মনীষার প্রেমের গুঞ্জন বাতাসে ভাসতে থাকে। সেই সময় ফিল্মি ম্যাগাজিনগুলোতে তাদের প্রেমের রসালো খবর ছাপা হতো। মনীষার প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন নানা পাটেকার মনীষা সঙ্গে ভালোই সময় কাটান। অভিনেত্রীর বাড়িতে প্রায়ই আসতে দেখা যেত নানা পাটেকার কে। অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন যে মনীষা নানার ছেলে এবং নানার মায়ের সঙ্গে সময় কাটায়। মনীষাকে তার ছেলে ও মা দুজনেই পছন্দ করেন।

তবে যেভাবে তাদের রোমান্সের গল্প সেই সময়ে মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল সেই রকম ভাবেই তাদের ঝগড়ার খবর কিন্তু ছাপা হতে থাকত ফিল্মি ম্যাগাজিনের। নানা নাকি মনীষা কে নিয়ে খুব পজেসিভ ছিলেন সেই জন্য মনীষাকে বিভিন্ন শর্ত দিয়েছিলেন যেমন কোন সিনেমায় স্বল্পবাস পরা চলবে না, হিরোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও অভিনয় করা চলবে না ইত্যাদি। যদিও মনীষা মেনে নিয়েছিলেন এই সমস্ত বাধানিষেধগুলি।

তবে ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে কারণ মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস হলেও মনীষাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলেন না নানা। এদিকে মনীষাও বুঝতে পারছিলেন নানা কী চান। আর এই সময়ে আয়েশা জুলকার সঙ্গে নানা পাটেকারকে আপত্তি জনক অবস্থায় দেখে ফেলেন মনীষা। শোনা যায় এখানে নানা পাটেকার এর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটে তার এবং আয়েশাকেও নাকি বেশ কথা শুনিয়েছিলেন মনীষা।

এরপর দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। মনীষা অন্য কারোর জীবনে যান এবং নানা পাটেকর আয়েশা জুলকার সঙ্গে লিভ ইন করতে শুরু করেন। যদিও পরে একটি সাক্ষাৎকারে মনীষা কে নিয়ে নানা বলেছিলেন,“এখানকার সময়ের সবচেয়ে সেনসিটিভ অভিনেত্রী মনীষা। ওকে কারও সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে না। ওঁর সব রয়েছে এবং সেটাই যথেষ্ট।”

এছাড়াও মনীষার সঙ্গে তার ব্রেকআপ নিয়ে নিজের কষ্টের কথা গোটা জগতের সামনে প্রকাশ্যে এনেছিলেন নানা।তিনি বলেছিলেন, “ব্রেক আপের সময়টা খুবই কঠিন ছিল। সে ব্যথা বুঝতে হলে ওই ধরনের অভিজ্ঞতা হতে হবে আপনার। কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম, তা বলে বোঝাতে পারব না। দয়া করে এ নিয়ে কথা বলবেন না। আমি মনীষাকে মিস করি!”

পরে ২০১০ সালে মনীষা বিয়ে করেন নেপালের ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে। যদিও সেই বিয়ে মাত্র দুই বছর টিকে ছিল। এরপর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন মনীষা এবং সেখান থেকে জিতে এসে বর্তমানে অভিনয় মন দিয়েছেন এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী।

অন্যদিকে আয়েশা জুলকাকে ছেড়ে দিয়ে নানা পাটেকার ফিরে গিয়েছেন নিজের স্ত্রী নীলকান্তির কাছে। বর্তমানে দুজনেই দুজনের জগতে প্রতিষ্ঠিত তবে এখনও তাদের সেই প্রেম কাহিনী মাঝে মাঝেই ভেসে ওঠে অনুরাগীদের মনে।

RELATED Articles