পুজোর আগেই বাংলায় পা রাখতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরবঙ্গে প্রস্তুতি তুঙ্গে!

দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। কিন্তু তার‌ও আগে বঙ্গে পা রাখতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Saha)। প্রায় ৩ সপ্তাহ আগে দিল্লিতে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন বাংলায় আসার। আর তাই পুজোর আগেই তিনি বাংলায় (West Bengal) আসবেন ধরে নিয়ে জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।

কারণ বিজেপির চাণক্য যে ১৭ বা ১৮ অক্টোবর শিলিগুড়িতে আসছেন, তা প্রায় চূড়ান্ত। সূত্রের খবর, তার‌ এই বঙ্গ ভ্রমনের পিছনে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রয়েছে বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই বিষয়ে আলোচনা করতেই পুরো উত্তরবঙ্গের(North Bengal) বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক বসবেন তিনি। আগামী বছরই হতে চলা ভোটে পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ঠিক কী রকম, তার স্পষ্ট হয়ে যাবে শিলিগুড়ির বৈঠকেই। এমনটাই মনে করছে বাংলার শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব।

শিলিগুড়িতে অমিত যে বৈঠক করবেন, তা কোনও সরকারি বৈঠক নয়। কিন্তু বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। আর তাই তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু প্রোটোকল রয়েছে। তাই অমিতের সফরের দিন ক্ষণ সম্পর্কে চূড়ান্ত বার্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকেই আসবে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতারা এখন সেই বার্তার অপেক্ষাই করছেন।
কিন্তু প্রস্তুতিতে খামতি নেই!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বঙ্গে আসার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমেই। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু এখন উত্তরবঙ্গের জোনাল ইনচার্জ। সায়ন্তন বাবুর কথায়, ‘‘তারিখটা এখনও চূড়ান্ত ভাবে জানানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু প্রস্তুতি আমাদের শুরু করতেই হচ্ছে। কারণ এটা ছোটখাটো কোনও বৈঠক নয়, অমিত শাহ আসছেন। প্রস্তুতির জন্য অন্তত ৩-৪ দিন লাগবেই।’’

তবে করোনা পরিস্থিতির জেরে উত্তরবঙ্গের বৈঠকে খুব বেশি সমাগম অবশ্য বিজেপি চাইছে না। উত্তরবঙ্গের সব ক’টি জেলা থেকে প্রতিনিধিরা বৈঠকে ডাক পাবেন। তবে শুধু জেলা স্তরের নেতারাই থাকবেন, তার নীচের স্তরের নেতারা নন। আর উত্তরবঙ্গের যে নেতারা রাজ্য কমিটিতে রয়েছেন, তাঁরাও বৈঠকে থাকবেন। সব মিলিয়ে ২০০ প্রতিনিধিকে নিয়ে অমিত বৈঠক করবেন বলে জানা যাচ্ছে।

বঙ্গ বিজয় যে অমিত শাহের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তা বঙ্গের পদ্ম শিবিরের নেতাদের অজানা নয়। আরও একটু আগে থেকেই বাংলার ময়দানে তিনি নামতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করোনা আবহে দিল্লির পরিস্থিতি সামলাতে বেশ কয়েক মাস ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাঁকে। পরে তিনি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হন। এক বার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ফের তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় দুর্বলতাজনিত কারণে। তাই বাংলার বিজেপি-কে এত দিন সময় দিতে পারেননি।

RELATED Articles