একটা সময় ছিল যখন মানুষ টিভিতে শুধু দূরদর্শন চ্যানেলই দেখত। দূরদর্শনের বিভিন্ন চ্যানেলের প্রোগ্রামই ছিল মানুষের বিনোদনের উপাদেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞানের উন্নতির হাত ধরে এল কেবল নেটওয়ার্ক। বাড়ল চ্যানেল সংখ্যা, বাড়ল বিনোদনের উপাদানের সংখ্যা। একাধিক চ্যানেলে একাধিক বিনোদন প্রোগ্রাম মানুষকে আরও বেশি মনোরঞ্জন করতে শুরু করল। আর এসবের মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গেল দূরদর্শনের চ্যানেল। কিন্তু লকডাউনের মাঝে আবার যেন প্রাণ ফ্রে পেয়েছে প্রসার ভারতীর অন্তর্গত দূরদর্শন, সঙ্গে আকাশবাণীও।
সরকারের প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছর নিউজ অন এয়ার অ্যাপে অংশ নিয়েছে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন গ্রাহক ও ৩০০ মিলিয়ন ভিউয়ার বেড়েছে বিভিন্ন দূরদর্শন চ্যানেলসহ রেডিওতেও। দূরদর্শন ন্যাশানাল, দূরদর্শন নিউজের পাশাপাশি ডিডি সায়াদ্রির মারাঠা নিউজ, ডিডি চন্দনার কানাড়ার প্রোগ্রাম, ডিডি বাংলার বাংলা খবর ও ডিডি সপ্তগিরির তেলেগু প্রোগ্রামগুলি প্রসার ভারতীর প্রথম ১০ চ্যানেলের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
অতিমারির জন্য লকডাউনের সময় ফের শুরু হয় রামায়ণ ও মহাভারতের মতো দুই টেলিভিশন শো, যা নব্বইয়ের দশকে প্রচণ্ড জনপ্রিয় ছিল। জানা গিয়েছে, রামায়ণের প্রথম প্রথম পর্ব যেদিন পুনরায় সম্প্রচার হয়, তখন দূরদর্শনের ওয়েবসাইটে ধুন্ধুমার কাণ্ড। ভারতে এই শো-টির সম্পর্কেই সবথেকে বেশিবার সার্চ করা হয় গুগলে। এছাড়াও, এই চ্যানেলগুলি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যখন ‘শক্তিমান’-এর মতো জনপ্রিয় শো আবার ফিরে আসে।
তবে দূরদর্শনের সবথেকে বেশি ভিউ হয় যখন এই চ্যানেল তাইওয়ানের খবর সম্প্রচার করে। এইজন্য চীন থেকে দূরদর্শনে চিঠিও দেওয়া হয়।
তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, দূরদর্শনের আন্তর্জাতিক দর্শকের তালিকায় শীর্ষেই রয়েছে পাকিস্তানের নাম। ২০২০ সালে বিচার করে দেখা গিয়েছে যে, পাকিস্তান হল দ্বিতীয় দেশ যা দূরদর্শন ও আকাশবাণীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখার ক্ষেত্রে ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে। এদিকে, রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা রয়েছে দূরদর্শনের আন্তর্জাতিক দর্শকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।





