সুশান্ত সিং রাজপুত অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা এখন পুরোপুরি অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা তার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া, মানসিক অত্যাচার এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এনেছিলেন।
মাদকচক্র যোগের জন্য রিয়া চক্রবর্তীকে এক মাস জেলে কাটাতে হয়। এবার জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে রিয়া পাল্টা পদক্ষেপ নিলেন সুশান্তের পরিবারের বিরুদ্ধে। সুশান্ত সিং রাজপুত-এর দুই দিদির বিরুদ্ধে এবার এফআইআর দায়ের করেছেন রিয়া। যার জেরে সম্ভবত গ্রেফতার হতে পারেন সুশান্তের দিদিরা।
রিয়া অভিযোগ করেছেন যে, জাল প্রেসক্রিপশন তৈরি করে সুশান্তকে তাঁরা নিষিদ্ধ ওষুধ খাইয়েছিলেন। কোনও অবস্থাতেই তাঁরা যাতে নিষ্কৃতি না পান, তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী।
এর আগে যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছিল যে সুশান্তের মানসিক সমস্যার কথা তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। দিদি প্রিয়াঙ্কা লিব্রিয়াম, মেক্সিটো এবং লোনাজেপ নামে তিনটি ওষুধ সুশান্তকে একটি প্রেসক্রিপশন দিয়ে কিনতে বলেন। যাঁরা অবসাদ এবং উৎকণ্ঠার সমস্যায় ভোগেন তাঁদের সাধারণত এই ওষুধগুলি নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এগুলি সরাসরি দোকানে গিয়ে কিনে নেওয়া যায় না। তাই একটি প্রেসক্রিপশনে ওষুধগুলো লিখে পাঠিয়ে দেন প্রিয়াঙ্কা এবং সেখানেই ওঠে প্রশ্ন।
এই চ্যাট এর স্ক্রিনশট কে হাতিয়ার করেই বান্দ্রা থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন রিয়া। জাল পেসক্রিপশন তৈরি করে সুশান্ত সিং রাজপুতকে ওই ওষুধগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ জানাচ্ছেন রিয়া চক্রবর্তী। ফলে সুশান্ত এই ওষুধগুলো খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠান রিয়া।
তবে রিয়ার এফআইআর যাতে বাতিল করে দেওয়া হয় তার জন্য সম্প্রতি বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তার দুই দিদি। তবে তার পাল্টা রিয়া নিজের আইনজীবীর মারফত ৩০ পাতার একটি আবেদন জানিয়েছেন ফলে গোটা ঘটনাটি এখন অন্য দিকে মোড় নিয়েছে।
তরুণ কুমার নামের যে চিকিৎসক সুশান্তের মানসিক অবস্থার কথা না জেনেই তাঁর জন্য ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলছেন রিয়া। কী করে তিনি সুশান্তকে না দেখেই এই ওষুধগুলো লিখে দিতে পারেন তাই ভাবিয়ে তুলেছে রিয়া চক্রবর্তীকে।
তবে সুশান্তের দুই দিদির পরবর্তী অবস্থা কী হবে তা আগামী ৪ঠা নভেম্বর জানা যাবে। ওইদিন বিচারপতি এসএস শিন্ডে এবং এমএস কার্ণিকের ডিভিশন বেঞ্চ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।





