গতকাল, বৃহস্পতিবার গরু পাচার কাণ্ডে (cattle smuggling case) সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এরপর থেকেই বিরোধী শিবির শাসক দলকে কটাক্ষ শানিয়ে রাস্তায় নেমেছে। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পথচারীদের গুড়-বাতাসা বিলিয়ে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে বাম-বিজেপিকে (CPM-BJP)। এবার ফের একবার নিজের চেনা ছন্দেই অনুব্রতকে বিঁধলেন তারকা-বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)।
‘অনুমাধব অনুমাধব, তোমার বাড়ি যাব, অনুমাধব আজ রাখিতে, রাখি কী কেউ পাব’? ফের এমনই প্যারোডি কবিতার মাধ্যমে শাসক দল ও অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ শানান রুদ্রনীল। শুধুমাত্র কবিতাই নয়, এদিন নানান মন্তব্যও করেন বিজেপি নেতা। চরম তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকেও। এর আগেও অনুব্রতকে নিয়ে ‘অনুমাধব’ প্যারোডি করেছেন তিনি।
এদিন রুদ্রনীল বলেন, “বীরভূমের মাটিতে ছিলেন গুরুদেব আর সঙ্গে ছিলেন জয়দেব। এখানে জুটে গিয়েছিল এই ভদ্রলোক। তবে একটাই কথা বলব, তিনি রাখি পরে যেতে পারলেন না তাঁর দিদির কাছ থেকে। এটা বড্ড খারাপ লাগল। তবে জানি না, উনি আর পার্থদা এই রাখি উৎসব নিয়ে কী আলোচনা করবেন। আমরা সবার মঙ্গল চাই”।
তাঁর আরও সংযোজন, “আমার একটাই চিন্তা। পশ্চিমবঙ্গের জেলে তো এতো জায়গা নেই। এতো মানুষ হয়ে যাচ্ছে। যারা বালতি বা গামছা চুরি করে জেলে রয়েছেন, তারা কোথায় যাবেন। তাই যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদের অনুরোধ করব, যদি পাশ্ববর্তী রাজ্যে আবেদন করা যায়। জানি না আইনে রয়েছে কিনা। তবে আজকে রাখির দিনে এমন ঘটনা বাংলাকে গৌরবান্বিত করে না”।
শুধুমাত্র অনুব্রতই নয়, কিছুদিন আগে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পরও সেই নিজের চেনা ছন্দেই কবিতা দিয়েই কটাক্ষ করেছিলেন রুদ্রনীল। বলেছিলেন, “২১ জুলাই মঞ্চ থেকে বেচল দিদি মুড়ি, ২২ জুলাই অর্পিতাদের ফ্ল্যাটে কোটি কুড়ি। মুড়ি বেচার টাকা নাকি চাকরি চুরির টাকা, বলি ও দিদিভাই জবাব তো দিন, মালিক তো আপনি একা। ২০ কোটির নোটের পাহাড় দেখল বঙ্গবাসী, অর্পিতাদের উন্নয়নে আমার দিদি খুশি, তৃণমূলের দুর্গাপুজোয় অর্পিতারাই মুখ, নেতার কাছের মানুষ হলেই পাবে অপার সুখ…লজ্জা, ঘেন্না, শিকেয় তুলে লুটছে অবিরত”।
এই প্রথমবার নয়, শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্যারোডির মাধ্যমে নানান কটাক্ষ করেছেন তিনি। নানান কাণ্ডে বারবার সরব হয়েছেন রুদ্রনীল। তাঁর এই ধরণের কটাক্ষ নেটবাসীরা যে বেশ উপভোগ করেন, তা বেশ স্পষ্ট।





