বহু রহস্যে ভরা সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা! আজ প্রায় মাস দুয়েক হতে চলল তাঁর চলে যাওয়ার কিন্তু না কোনও তত্ত্বই টেকেনি। সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশ দাবি করেছে, মৃত্যুর ঠিক আগে নিজের নাম সার্চ করে গুগলে নিজের নামে কি সংবাদ বেরিয়েছে তা দেখেন অভিনেতা।
একইসঙ্গে দেখেন তাঁর প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের আত্মহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে তার নামে কোনও খবর রটেছে কিনা মিডিয়াতে। তবে সব থেকে চকিত হওয়ার মতো বিষয় সুশান্ত সিং রাজপুত গুগলে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর বিভিন্ন উপায়ে সার্চ করেন। এর থেকে কি এই অনুমানে আসা যায়, অভিনেতা সত্যই মানসিক অবসাদের শিকার ছিলেন? এই প্রসঙ্গে তাঁর চিকিৎসক আগেই বলেছেন যে তিনি নাকি একটি বাইপোলার ডিজঅর্ডার এর শিকার ছিলেন।
কি এই বাইপোলার ডিজঅর্ডার? এটি এমন এক ধরনের মানসিক অবসাদ যেখানে ব্যক্তি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যে, তিনি যে কোন উপায়ে মৃত্যুর পথ বেছে নেবার চেষ্টা করেন। সুশান্তর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকের রেশ টেনে এই একই কথা বলছে মুম্বাই পুলিশ। তাঁদের বক্তব্য, কোন এক মানসিক অবসাদে বহুদিন ধরে ভুগছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এরইমধ্যে সুশান্তের বাবা বিহার পুলিশের কাছে রিয়া চক্রবর্তীর নামে অভিযোগ দায়ের করাতে এই তদন্তে নেমে পড়েন বিহার পুলিশ। কিন্তু কোনভাবেই মুম্বাই পুলিশ বিহার পুলিশের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে রাজি হচ্ছে না।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ মনে করেন যে, এই ঘটনা তদন্ত নিয়ে অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে। যেখানে মুম্বাই পুলিশ এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছে, সেখানে এই তদন্ত সিবিআই এর হাতে দেবার কোন দরকার নেই বলেই মনে করেন তিনি। মুম্বাই পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানিয়েছে, “সুশান্ত সিং রাজপুত কোন এক অজানা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এটা নিশ্চিত। আমরা এত দিনে প্রায় বহু মানুষকে তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। কিন্তু কারোর থেকেই সে রকম কোনো তথ্য উঠে আসে নি। এছাড়া সুশান্তের ল্যাপটপ ফোন বা অন্যান্য গেজেট থেকে আমরা সন্ধান পেয়েছি যে, সুশান্ত মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও আত্মহত্যার পথ নিয়ে গুগোল এ সার্চ করেছেন। অর্থাৎ তিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তবে তার মানসিক অবসাদের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য রাখতে পারব”।





