পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারকে (Uttam Kumar) আবার পর্দায় ফিরিয়ে এনেছেন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে। তার এই বৈপ্লবিক কাজে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) বিভিন্ন ছবির ক্লিপিং কেটে তৈরি করেছেন অতি উত্তম ছবিটি। দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছে সেই ছবি। সেখানে বাকি নায়ক নায়িকাদের মত তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে পর্দায়। মহানায়ক উত্তম কুমারকে এভাবে পর্দায় দেখে অনেকেই আপ্লুত হয়েছেন। অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই কাজে। তবে এই ছবি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়।
সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত অতি উত্তম ছবিটি দেখার পর অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়কে মহানায়ক উত্তম কুমার (Uttam Kumar) সম্পর্কে দু চারটি কথা বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল। একসময় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সহ অভিনেতা ছিলেন মহানায়ক। ইন্ডাস্ট্রি সকলেই মহানায়ককে দাদা সম্বোধন করতেন। অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় বারংবার উত্তম কুমারকে স্মরণ করছিলেন তার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের কথায় “সকলে উত্তমকুমারের (Uttam Kumar) অভিনয় চেনেন। পর্দায় তাঁর সুপুরুষ চেহারা দেখেছেন। কিন্তু আমার যেটা সবচেয়ে মনে পড়ে, তা হল ব্যক্তি উত্তমকুমারকে। মানুষ উত্তমকুমারের কোনও তুলনাই চলে না।”
উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) জনপ্রিয়তা নিয়ে বিশেষ কিছুই বলার নেই। নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মন পেয়েছিলেন। এমনকি মহানায়ক খেতাব অর্জন করে নিয়েছিলেন তিনি। জানা যায় প্রত্যেক ছবি পিছু দুই থেকে চার লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। তাকে ছবিতে অভিনয় করানোর জন্য যে কোন মূল্য দিতে রাজি হয়ে যেতেন প্রযোজকেরা। প্রযোজকদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল উত্তম কুমার পর্দা এলে পারিশ্রমিকের বিপুল পরিমাণ অর্থ বক্স অফিসে তুলে দেবেন তিনি। তবে সেসময়ের দু চার লাখ টাকা আজকের দিনের ৯৫ থেকে ১ কোটি টাকার সমান। তবে এত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েও টালিগঞ্জের রাস্তায় ভিক্ষা করতে হয়েছিল উত্তমকুমারকে। এই সত্যিটা অনেকেই জানেন না মহানায়কের ব্যাপারে। সাক্ষাৎকারে মাধবী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান কেন উত্তম কুমারকে (Uttam Kumar) ভিক্ষা করতে হয়েছিল।
মাধবী মুখোপাধ্যায়ের কথায়, একবার ভয়ানক বন্যা হয়েছিল, চারিদিকে হাহাকার। উত্তম কুমার (Uttam Kumar) নিজে যা উপার্জন করেছিলেন তাতে হাজার হাজার মানুষের হাহাকার মেটাতে পারতেন না। তাই সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন উপার্জন করতে। লোকের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিয়েছিলেন বন্যার ত্রাণের জন্য। খ্যাতি কমবে জেনে, এমন কোন কাজ তিনি করতেন না। এমনকি জনসমক্ষেও বেরোতেন না। তবে মানুষের বিপদে পাশে এসে দাঁড়াতে কখনোই পিছপা হননি মহানায়ক। বন্যায় বিপদে পড়ে মানুষগুলো ত্রান জোগাড় করতে লোকের কাছে হাত পেতে টাকা চাইতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। ভুলে গিয়েছিলেন নিজের খ্যাতির কথা। এমনই ছিলেন মহানায়ক (Uttam Kumar)।
উত্তম কুমার (Uttam Kumar) নাকি দুস্থ ও বয়স্ক শিল্পীদের জন্য তৈরি করেছিলেন শিল্পী সংসদ। যাদের বয়স হয়েছে কাজ করতে পারছেন না তাদের জন্য প্রতি মাসে কিছু অর্থ ব্যবস্থা করতে ওই সংসদ তৈরি করেছিলেন মহানায়ক (Uttam kumar)। কোন মেকআপ আর্টিস্ট টাকা পাননি, কারোর মেয়ের বিয়ে টাকার জোগাড় হয়নি সবকিছুতেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar)।
মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, “একবার এক মেকআপ আর্টিস্টের মেয়ের বিয়ের জন্য ২৫,০০০ টাকা কমতি হয়েছিল। সেই টাকাটা কিন্তু যথাসময়ে সেই রূপসজ্জা শিল্পীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বয়ং উত্তমই (Uttam Kumar)। মানুষটা বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন আমাদের মধ্যে থেকে। থাকলে আরও কতই না উন্নতি হতে পারত আমাদের ইন্ডাস্ট্রির।”





