রেফ্রিজারেটরের ঠান্ডা জলে রয়েছে বিপদ! এবার প্রাকৃতিকভাবেই পান কনকনে ঠান্ডা পানীয় জল, একটা কাজেই মুশকিল আসান

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজ্যবাসী।‌ বাইরে বেরোলে গরম হাওয়া যেন পুড়িয়ে দিচ্ছে ত্বক। স্বাভাবিকভাবেই এই গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে ভরসা করতে হচ্ছে আইসক্রিম, কুলফি, ঠান্ডা জলে (Cold Water)। বেশিরভাগ জনই ঠান্ডা জলের জন্য ভরসা করছেন রেফ্রিজারেটরে। তবে ফ্রিজের ঠান্ডা জলে রয়েছে বিপদ জানেন কি? প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে জল ঠান্ডা করতে পারেন তার কিছু উপায় জানাবো আপনাদের। গরমকালের ঠান্ডা জল ছাড়া খাওয়াই যায় না, যেন তৃষ্ণা মেটে না। ‌তাই ফ্রিজের ঠান্ডা জল না খেয়ে এবার প্রাকৃতিক উপায়ে জল ঠান্ডা করুন।

গরমকালে দেখা যাচ্ছে বালতিতে বা বোতলে জল ধরে রাখলে তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই গরম হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তাই প্রচন্ড গরমে স্বস্তি পেতে ফ্রিজে ঠান্ডা জলে (Cold Water) ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু রেফ্রিজারেটর ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় বাড়িতে জল ঠান্ডা করে রাখতে পারেন। এখনো অনেক মানুষ আছেন যারা রেফ্রিজারেটর এর বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে জল ঠান্ডা রাখেন। ‌ জানেন কিভাবে এ প্রাকৃতিক উপায়ে জল ঠান্ডা রাখতে হয় ?

আগেকার দিনে মা ঠাকুমারা জল ঠান্ডা (Cold Water) রাখার জন্য মাটির মটকা বা কুঁজো ব্যবহার করতেন। অনেকেই গরম থেকে স্বস্তি পেতে পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ‌ এখনো গ্রামেগঞ্জে গেলে মাটির মটকার দেখা মেলে। তবে শহরাঞ্চলে মানুষের ভরসা রেফ্রিজারেটরের জল। তবে রেফ্রিজারেটরের ঠান্ডা জলে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ‌‌ কিন্তু প্রাকৃতিক উপায় ঠান্ডা করা কুঁজোর জলে কোন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি নেই। ‌

জানা গেছে, মটকা বা কুঁজোর জলে কোন সাইড এফেক্ট নেই। তবে কুঁজো ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে তাতে জল রাখলে সমস্যা হতে পারে। প্রাকৃতিক উপায়ে জল ঠান্ডা (Cold Water) করার জন্য কুঁজো ব্যবহার করলে সেটা পরিষ্কার করার পদ্ধতি অবশ্যই জানা উচিত। আজই বাজার থেকে একটা কুঁজো বা মটকা কিনে আনতে পারেন। ‌

তবে মটকা বা কুঁজো (Cold Water) ব্যবহার করলে যেগুলি মনে রাখতে হবে-

মটকা বা কুঁজো দোকান থেকে কিনে এনে ভালো করে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। ‌তবে সাবান বা সাবানগুঁড়ো দেওয়ার কথা ভুলেও ভাববেন না। মটকা বা কুঁজো মাটির হওয়ায় তাতে মিশে যেতে পারে সাবান গুঁড়ো। ফলে সেটিতে জল রাখলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। আবার জলেও সাবানের গন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেটা পানীয় হিসেবে খাওয়া উচিত হবে না।

বে কুঁজো বা মটকা পরিষ্কারের সময় জলের সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে নিতে পারেন। তাতে কুঁজো ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার হবে। তাতে কুঁজো মিশে থাকা ময়লা সহজেই বেরিয়ে যাবে। কুঁজো সরাসরি মেঝেতে বসাবেন না। কাঠের কোনো পাটাতনের উপর কুঁজো রাখলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করে যেখানে সেখানে মটকা রাখবেন না। ঘরের কোন ঠান্ডা জায়গায় কুঁজোটি রাখুন। কুঁজোর গায়ে ভিজে কাপড় জড়িয়ে রাখতে পারেন। তাহলে এইভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে আপনি সহজেই জল ঠান্ডা (Cold Water) করতে পারবেন। যা রেফ্রিজারেটরের জলকেও হার মানাবে।

আরও অন্যান্য খবর