ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভুলেও এই কাজগুলো করবেন না!

বর্তমানে লকডাউনের বাজারে আমাদের দিনযাপন পুরোটাই উল্টে পাল্টে গিয়েছে। কাজের সময় পরিবর্তন হয়েছে ফলে দেখা যাচ্ছে যে অনেকেই দিনের বেলা ঘুমাচ্ছেন কিন্তু রাতে ঘুমাতে পারছেন না। সারাদিন খাটছেন সেইসঙ্গে রাতেও কাজ করছেন এমন অনেকে আছে আবার অনেকেই আছেন সারারাত ধরে ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে থাকেন ফলে ঘুম আসতে ভোর হয়ে যাচ্ছে। আর এই নিদ্রাহীনতা তাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে কিন্তু শরীর তো মানছে না সেই কথা।

অনেকেরই বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে শরীরে। কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? সমাধান খুঁজছেন সকলেই। ‌নিচে কয়েকটি উপায় দেওয়া হলো যেগুলি আপনি নিজের জীবনের পালন করলে রোজ রাতেই আপনার জীবনে নেমে আসবে শান্তির ঘুম।

১. ডিনারে তেল-মশলাযুক্ত খাবার নৈব নৈব চ। এই রকম খাবার খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি হয় যার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এছাড়াও পরেরদিন ডাইজেশন এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. অনেকেরই অভ্যাস আছে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা। তবে ফ্লেভার যুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করাটা উচিত নয় কারণ এতে দাঁতের শিরশিরানি ভাব থেকে যায় যা ঘুমে অসুবিধা সৃষ্টি করে।

৩. অনেকেই ঘুমের আগে বই পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অভ্যাস খুবই ভালো কিন্তু কোন থ্রিলার বা উত্তেজক বই ঘুমের আগে না পড়াই ভালো। ‌ কারণ এই প্রকার বই আপনাকে চিন্তামগ্ন করে তুলবে যা আপনার ঘুম আসতে বিলম্ব ঘটাবে।

৪. অনেকেই ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ চা বা এক মগ কফি খেয়ে ঘুমাতে যান। আপনারা নিজেদের অজান্তেই নিদ্রাহীনতা ডেকে আনছেন। এই ধরনের পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে যা ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তাই কফি বা চা সকালে উঠে খাওয়া উচিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. আমাদের মধ্যে বহু মানুষের অভ্যাস আছে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠান্ডা জলে স্নান করা। এটাও একটি বদঅভ্যাস। ঘুমানোর আগে কখনোই ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান করা উচিত না কারণ এটা ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ। একান্তই যদি স্নান করার অভ্যাস থাকে তাহলে ঈষদুষ্ণ গরম জলে স্নান করা উচিত।

৬. একটু সুখটান না মারলে ঘুম আসে নাকি? এই সুখটান যে আপনার জীবনের দুখটান হয়ে যাচ্ছে আপনি নিজেও তা বুঝতে পারছেন না। সিগারেটের নিকোটিন ঘুম আসতে বাধা দেয়। তাই এই রাতে ঘুমাবার আগে ধূমপান না করাই শ্রেয়।

৭. আমাদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের অভ্যাস রাত্রে শোয়ার পর বিছানায় শুয়ে ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা। এই করতে গিয়ে কখন যে ভোর রাত হয়ে যায় আপনি তা খেয়াল করেন না। স্মার্টফোন থেকে যে নীল আলো বিচ্ছুরিত হয় তার ঘুম আসার পথে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। আপনি চাইলে ডার্ক মোড কিংবা নাইট মোড করে রাখতে পারেন। কিন্তু রাতে শোয়ার পর ফোন নিয়ে বেশিক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উচিত।

৮. ঘুমানোর আগে কারণসুধা পান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু এই কারণেই আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়। কারণ অ্যালকোহল আমাদের পরিপাকতন্ত্রের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অ্যালকোহল পান না করাটাই উচিত।

উপরিউক্ত উপায় গুলি যদি মেনে চলতে পারেন তাহলে আর কোন চিন্তা নেই। রাতে বিছানায় শোয়ার কিছুক্ষণ পরেই দেখবেন চোখে ঘুম নেমে এসেছে।

RELATED Articles

Leave a Comment