পশ্চিম এশিয়ার আকাশে এখন যেন বারুদের গন্ধ। একের পর এক সীমান্ত সংঘর্ষ, পাল্টা হামলা আর পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে যা ঘটছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল, সোমবার রাতের পর তা আরও ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে বলে দাবি উঠছে।
আফগান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে পাকিস্তানি সেনা ডুরান্ড লাইন অতিক্রম করে আফগান সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই অভিযোগের পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তালিবান পরিচালিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করে, পাকিস্তানের আক্রমণের জবাব দিতেই পাল্টা অভিযান শুরু করে আফগান বাহিনী। সীমান্তের পাকটিকা প্রদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি পাকিস্তানি সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়। যদিও ইসলামাবাদের তরফে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।
এরপরেই সামনে আসে আরও বড় দাবি। আফগান বাহিনীর তরফে জানানো হয়, কান্দাহার-বেলুচিস্তান ও কান্দাহার-খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তের কাছে শোরবাক, স্পিন বোল্ডাক, মারুফ ও আর্গিস্তান এলাকায় পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি জাবুল-কামারদিন ও খোস্ত-মীরানশাহ সীমান্তেও ট্যাঙ্ক ও ভারী কামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক্স হ্যান্ডলে জানায়, কোয়েটা ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সেনা সদর দফতরেও আঘাত হানা হয়েছে। তাদের কথায়, সাতটিরও বেশি পাকিস্তানি সেনাঘাঁটি দখল বা ধ্বংস করা হয়েছে।
আফগান সেনা মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারেজমি(Enayatullah Khwarazmi) দাবি করেছেন, এই হামলায় অন্তত তিন জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে বন্দি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তালিবানপন্থী সূত্রে দাবি, সোমবার পাকিস্তানের Nur Khan Airbase-এও হামলা চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, অতীতে এই ঘাঁটিকে ঘিরে একাধিক সামরিক উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সমস্ত দাবির সত্যতা স্বীকার বা খণ্ডন করে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ “রুটিন চেক-আপই বাঁচিয়ে দিল..ভয় ছিল, কিন্তু লুকাইনি!” স্ত’ন ক্যা*ন্সারের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ে রাজশ্রী দেশপাণ্ডে! হাসপাতালের শয্যা থেকেই, নিজের অভিজ্ঞতায় অন্যদের সতর্ক করলেন অভিনেত্রী! কীভাবে ধরা পড়ে তাঁর এই রো’গ?
দুই দেশের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখনও থামেনি। ইসলামাবাদ দাবি করছে, তাদের হামলায় বহু তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আবার তালিবান বলছে, পাকিস্তানকে ‘দুরমুশ’ করে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলেও, স্থায়ী সমাধানের কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই। ফলে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে অস্থিরতা আরও বাড়বে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





