বাংলাদেশে আবারও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের ছবি সামনে আসছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপত্তা এখনও অধরা রয়ে গেল অনেক হিন্দুর কাছে। সম্প্রতি রংপুর জেলার এক অঞ্চলে যা ঘটেছে, তা মনে করিয়ে দেয় ৭১-র সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলিকে। বাড়ি ভাঙচুর, আগুন লাগানো, মানুষ ঘরছাড়া—এইসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে উদ্বেগ।
জানা গিয়েছে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। এক কিশোরের পোস্ট ঘিরে প্রথমে বিতর্ক দেখা দেয়। তাকে আটকও করা হয়। তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত পনেরোটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর চলে লাগাতার। আতঙ্কে বহু হিন্দু পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাঁরা কোথাও আশ্রয় নিচ্ছেন, কোথাও রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলায় অনেক বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, কিছু বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা চরম খাদ্যাভাবেও ভুগছেন। তাদের কাছে না আছে খাদ্য, না আছে বাসস্থানের ঠিকানা। সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, স্থানীয় হিন্দুদের বক্তব্য—তাঁরা এখনও নিরাপদ বোধ করছেন না। প্রশাসনের তরফে কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকী কোনও এফআইআরও দায়ের হয়নি। ফলে আতঙ্ক আরও গভীর হচ্ছে।
এই ঘটনার কিছুদিন আগেই আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের (USCIRF) এক রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণ করতে পারছেন না। জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পরে আগস্টে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হলেও, সেই সঙ্গে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার অভাবের কথাও জোরালোভাবে তোলা হয়।
আরও পড়ুনঃ Harassment : পরকীয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় শুরু হেনস্থা? বেতন আটকে, বদনাম করে চাকরি ছাড়াতে চাইছে বস, বিস্ফোরক অভিযোগ কর্মীর!
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গিয়েছে অন্তত ৭২ জনের। আহত হয়েছেন ১৬৭৭ জন। এমনকি ১৯ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেই রংপুরের এই সাম্প্রদায়িক হিংসা নতুন করে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। দেশে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা যেন ধীরে ধীরে আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!