Temple-Mosque: মন্দিরের স্থানেই তৈরি হচ্ছিল মসজিদ, ফুঁসে উঠলেন হিন্দুরা, নির্মাণকার্য বন্ধের দাবী

মন্দিরের (Temple) স্থানে তৈরি হচ্ছিল মসজিদ।‌ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির-মসজিদ বিতর্ক (Temple-Mosque) শুরু এলাকায়। ‌এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা বলেন, “কান্তজিউ মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান। এই পুরাকীর্তি মন্দির বাংলার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা শিল্পের অনুপম নিদর্শন।” গত পয়লা মার্চ এই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কে সূত্রপাত হয়। ১৩ই মার্চ মসজিদের (mosque) নির্মাণ কার্য বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলাশাসক চিঠি দিয়েছিলেন দিনাজপুর রাজ দেবতর স্টেটে এজেন্ট কুমার সিংহকে।

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির (Temple) অঙ্গনে মসজিদ নির্মাণে শুরু হয় বিতর্ক। বাংলাদেশে ‌দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ জাকারিয়া জাকা মন্দিরের জমিতে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছিল।‌এই ঘটনায় জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জমা করলে তিনি সাময়িকভাবে নির্মাণকার্য বন্ধ রাখতেন নির্দেশ দেন। পরে জেলাশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন। সব পক্ষের সাথে কথা বলে জেলা শাসক নির্দেশ দেন ওই জমিতে মসজিদ নির্মাণের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। জেলাশাসক শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, জমিটি রাজ দেবোত্তর এস্টেটের জমি। রাজ দেবোত্তর এস্টেটের জমির‌একজন ট্রাস্টি তিনি নিজেই। ওই জায়গায় মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে বলা হয়েছে ওই জমির বদলে অন্য কোনও জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করা হবে।

জেলাশাসক জানিয়েছিলেন, “বিতর্কিত জমিটি কান্তজি বিগ্রহের পক্ষে, সেবাইত মহারাজা জগদীশ নাথ রায়ের নামে রয়েছে। এই জমিরই এক অংশে মসজিদটি তৈরি হচ্ছিল।” রণজিৎ কুমার সিংহ দাবি করেন, “মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি তাঁকে জানিয়েছিলেন, ১৯৭৬ সালে দিনাজপুরের জেলাশাসক জমিটি তাদের দিয়েছিলেন। যদিও তিনি দলিল বলতে একটি হাতে লেখা তিন পৃষ্ঠার হলফনামা দেখিয়েছিলেন।” সেই হলফনামাটি ভুয়ো বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও জানান, ১৯৯৯ সালের এক আইন অনুযায়ী, দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তরযোগ্য নয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতির কথায়, “জমিটি একসময় খাস জমি ছিল। পরে রাজ দেবোত্তর এস্টেটের নামে রেকর্ড করা হয়। মন্দিরের পাশেই ৭৫-৮০ বছরের পুরনো একটি টিনের শেডের মসজিদ ছিল। সেখানে নামাজ পড়ার দায়গা কম পড়ছিল বলেই ২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে মসজিদের একটি তিনতলা ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল”। মসজিদ কমিটির সভাপতি অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসনই তাঁদের জমিটি বরাদ্দ করেছিল। এখন সুযোগ বুঝে সব কথা অস্বীকার করছে তারা।

স্থানীয় সাংসদ জাকারিয়া জাকার দাবি, “এই মন্দির-মসজিদ (Temple-Mosque)  বিতর্ক সম্পর্কে কিছু জানতেন না। কয়েকজন তাঁকে সেখানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে জেনেছেন, ১৯৫০ সালের একটা মসজিদ ছিল ওখানে। ১৯৯৩ সালে একবার সেটা সংস্কার করা হয়েছিল। এবার টিনের শেডের মসজিদ ভেঙে, একটি পাকা মসজিদ করা হচ্ছিল।” তাঁর কথায় বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে জেলাশাসককে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্দির-মসজিদ (Temple-Mosque) জমি বিতর্ক নিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “জেলা প্রশাসন মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ করার পর, কেউ যাতে গুজব না ছড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়, তার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ সতর্তা অবলম্বন করেছে। তবে, সার্বিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই রয়েছে। কোথাও কোনও উত্তেজনা নেই।”

স্থানীয় সাংসদ বলেছেন, “আমার এলাকা শান্তিপূর্ণ এলাকা। সেখানে কেউ বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ পাবে না। স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক আছে। আমি নিজেও খোঁজখবর নিচ্ছি।”

RELATED Articles