রাজ্যের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন আসছে ৪ নভেম্বর। একদিকে ওই দিন থেকেই শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া, অন্যদিকে ঠিক সেই দিনই পথে নামছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দু’টি ঘটনাই যে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তা বলাই যায়।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ৪ নভেম্বর দুপুর দেড়টা নাগাদ কলকাতার রেড রোডে বি.আর. আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হবে তৃণমূলের বিশাল মিছিল। সেখান থেকে শোভাযাত্রা যাবে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত। মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকেরা ভিড় করবেন রেড রোডে।
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এই মিছিলের মূল উদ্দেশ্য “গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান এবং বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।” মমতা–অভিষেক কী বার্তা দেবেন, তা নিয়েও এখন জল্পনা চরমে। তৃণমূল শিবিরের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না যায়, সেই সতর্কতা বজায় রাখতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। দলের আশঙ্কা, “এসআইআর প্রক্রিয়ার নাম করে অনেক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে।” শুক্রবার দলীয় বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, “আগামী ছ’মাস আমাদের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কেউ যাতে অন্যায়ের পথে না হাঁটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক জানান, “বিএলএ (BLA)-দের কাজ হল বিএলও (BLO)-দের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা। এটা কোনোভাবেই দায়িত্বে গাফিলতির জায়গা নয়।” তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন— “গাছাড়া মনোভাব চলবে না। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রতিটি ভোটারের নাম তালিকায় থাকা জরুরি।”
আরও পড়ুনঃ Terr*or Strike : পুলওয়ামার ধাঁচে পাকিস্তানি সেনাকে নিশানা বালোচ বিদ্রোহীদের, কালাতে রকেট হাম*লায় মৃ*ত ৯ কম্যান্ডো-সহ সেনা!
শহরজুড়ে বিশাল ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় কলকাতা পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত রুটে নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। সব মিলিয়ে ৪ নভেম্বরের দিনটি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও রাজ্যের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে— যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন আর গণতন্ত্র রক্ষার দাবির মেলবন্ধন ঘটবে একই মঞ্চে।





