গরিব ট্যাক্সি ড্রাইভার এর মেয়েকে স্কুল ব্যাগ কিনে দিলেন এক যাত্রী। সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে কিরণ বার্মা নামক এক ব্যক্তির পোস্ট। ওই ব্যক্তির পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি একটি উবার ট্যাক্সি বুক করেন। গাড়িতে উঠে কিছু এগোতেই ড্রাইভার (cab driver) এর কাছে ফোন আসে তার মেয়ের। যেহেতু ভদ্রলোক ড্রাইভ করছিলেন তাই ফোনটি স্পিকারেই দেওয়া ছিল। সেখান থেকে কিরণ বার্মা শুনতে পান ওই ড্রাইভারটির মেয়ে একটা নতুন স্কুলব্যাগের আবদার করছে তার বাবার কাছে। কারণ সে নতুন ক্লাসে উঠেছে। তার সমস্ত বন্ধুদের নতুন ব্যাগ রয়েছে। তাই তারও একটা ব্যাগ চাই। কিন্তু ওই ড্রাইভার ভদ্রলোক মেয়েকে বোঝান যে তার কাছে এই মুহূর্তে এত টাকা নেই, যে আজই তার মেয়েকে একটা ব্যাগ কিনে দেবেন। তাই নিজের ছোট্ট মেয়েকে ভোলানোর জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করতে থাকেন।
তবে বাচ্চা মেয়েটি কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন তার বাবার কাছে টাকা নেই একটা ব্যাগ কেনার মতো। তাই বাধ্য হয়ে ড্রাইভার ভদ্রলোক তার মেয়েকে বলেন ফোনটি তার মাকে অর্থাৎ ড্রাইভারের স্ত্রী কে দেওয়ার জন্য। এরপর ড্রাইভারের স্ত্রী তাকে বলেন সামান্য যে টাকা আছে সেটা দিয়েই মেয়েকে একটি ব্যাগ কিনে দেওয়ার জন্য। ড্রাইভার ভদ্রলোকের স্ত্রী ফোনে জানান, স্কুলের খরচ বইপত্র সংসার খরচের পর তার কাছে আর টাকা নেই। সব টাকা ফুরিয়ে গেছে। এই ফোন আলাপ শুনতে শুনতে যাত্রী কিরণ বার্মা বুঝতে পারেন সম্পূর্ণ বিষয়টা। তাই কথোপকথনের মাঝেই তিনি নিজের ফোন থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর লোকেশন চেঞ্জ করে দেন। এবং যাত্রী বলেন মার্কেটের সামনে গাড়িটি থামাবার জন্য।
কিরন বাবু গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে বলেন একটি ভারী জিনিস গাড়িতে তুলতে হবে। আমার সঙ্গে চলুন। যাত্রীর অনুরোধ ফেলতে পারেননি ড্রাইভার। কিরণ বাবুর সাথে মার্কেটে যান। মার্কেটে ঢুকে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন কিরন বাবু। তারপরই একটি দামি স্কুল ব্যাগ কিনে ফেলেন। ততক্ষণে সবটা পরিষ্কার হয়ে যায় ড্রাইভার ভদ্রলোকের কাছে। ওই ড্রাইভার ভদ্রলোকের কাছে স্কুল ব্যাগটা তুলে দেন, তখন যথারীতি এই ড্রাইভার ভদ্রলোক লজ্জায় পড়ে যান।
কিরণ বাবু বলেন, এই উপহারটা একটা রাজকন্যার জন্য। ড্রাইভার ভদ্রলোক যেন অবশ্যই সেই রাজকন্যার হাতে ব্যাগটা পৌঁছে দিয়ে তার একটা ছবি তুলে পাঠান। তা দেখেই শান্তি হবে কিরণ বাবুর। এরপর নিজের মেয়ের হাতে ব্যাগটি তুলে দিয়ে, ড্রাইভার ভদ্রলোক কিরণ বাবুকে একটু ছবি তুলে পাঠান। তারপর সেই ছবি সহ লেখার বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। তাতেই মন ভালো হয়ে যায় নেটিজনদের।
বাবা গরীব হোক বা বড়লোক বাবা তো বাবাই। বাবার কাছে তাঁর মেয়েই তার রাজকন্যা। আর সেই রাজকন্যাকে ভালো রাখতে বাবার কঠোর পরিশ্রম। হয়তো ড্রাইভার ভদ্রলোক আর দুদিন পরেই বেশি পরিশ্রম করে তার মেয়েকে ব্যাগ কিনে দিতেন। কিরণ বাবুর মত লোক আছে বলেই ঠিক সময়ে রাজকন্যার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। কিরণ বাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেছেন তাতে বাচ্চাটির ও ড্রাইভারটির মুখ ঢেকে রেখেছেন। কিরণ বাবু চাননি ড্রাইভারের পরিচয় ও মেয়েটির পরিচয় সকলকে জানাতে। কিরণ বাবুর মতে অসহায় বাবার সন্তানের আশা পূরণ করেছেন তিনি।





