আরবি হরফে লেখা পোশাক পরে বিপাকে মহিলা, পোশাক খুলে নেওয়ার হুমকি, উদ্ধার করল পুলিশ

কেনাকাটা করতে বেরিয়ে বিপাকে এক মহিলা। আরবি হরফ লেখা পোশাক পরায় জনতার রোষে এক নারী। পোশাকের আরবি হরফগুলোকে কোরআনের আয়াত বলে মনে করে জনতারা। ওই নারীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নারীর ওপর চড়াও হয় জনতারা। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যায়। পুলিশ মহিলাটিকে রক্ষা করে নিরাপদে নিয়ে যায়। ওই নারী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তার পোশাকে আরবি অক্ষরে ‘হালওয়া’,আরবিতে যার অর্থ সুন্দর।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের একটি রেস্তোঁরায় এ ঘটনাটি ঘটে রবিবার দুপুরে। পাঞ্জাব পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট সাইদা শেহরবানো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৩০০ মানুষ। 

ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায় । তাতে দেখা যাচ্ছে ওই নারী ভয়ে রেস্তোরাঁর এক কোণায় বসে আছেন মুখ ঢেকে। তার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। জনতার ভিড় থেকে কেউ কেউ চিৎকার করে তার জামা খুলে ফেলতে বলছেন। আবার কেউ কেউ তার শিরশ্ছেদ করা উচিত বলে দাবি জানাচ্ছেন। ভিডিওতে কিছুজনকে বলতে শোনা গেছে, যারা ধর্ম অবমাননা করে তাদের শিরশ্ছেদ করা উচিত। 

উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার জন্য তাদের সাথে কথা বলে পুরো ঘটনার নিষ্পত্তি ঘটান পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট। তিনি বলেন, “আমরা তাদের বলেছিলাম যে, আমরা ওই নারীকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাব। তিনি কী করেছেন তা বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং তিনি কোনও অপরাধ করে থাকলে দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।”

পুলিশ ওই নারীকে পাহারা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়। তারপর সেখানে ধর্মীয় পন্ডিতরা তার জামার অক্ষর বিবেচনা করেন। ধর্মীয় পন্ডিতেরা নিশ্চিত করেছেন যে, তার পোশাকের লেখাটি আরবি চারুলিপির। পন্ডিতদের এই বক্তব্য রেকর্ড করা হয় এবং ওই নারী নির্দোষ বলার অনুরোধ করা হয় পুলিশের তরফে। 

উল্লেখ্য, এই ঘটনার পরে ওই নারী দুঃখ প্রকাশ করে জানান, “নকশাটি পছন্দ হওয়ায় তিনি ওই পোশাক পরেছিলেন। তিনি মুসলিম ধর্মীয়। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।”

RELATED Articles