China: চিনের নীরব সামরিক সম্প্রসারণের আভাস? উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়া রহস্যময় পরিকাঠামো কি প্লুটোনিয়াম প্রকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে যখন একের পর এক শক্তিধর দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে, তখন নীরবে নজর কেড়েছে চিনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত। দূর থেকে তোলা কিছু উপগ্রহচিত্র ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। কী তৈরি হচ্ছে সেখানে? কেনই বা এত গোপনীয়তা?

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স দাবি করেছে, চিনের সিচুয়ান প্রদেশে একাধিক পরমাণু কেন্দ্রের সম্প্রসারণ হয়েছে। বিশেষ করে জিটং উপত্যকা এবং পিংটন উপত্যকায় নজরকাড়া নির্মাণকাজ ধরা পড়েছে উপগ্রহচিত্রে। ২০১৯ সালের পর থেকে এই তৎপরতা ধীরে ধীরে বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জিটং উপত্যকার ছবিতে নতুন বাঙ্কার, উঁচু প্রাচীর এবং একটি বড় ভবনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভবনটিকে ঘিরে বিস্তীর্ণ এলাকায় পাইপলাইনের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপজ্জনক বা উচ্চমাত্রার সংবেদনশীল পদার্থ নিয়ে কাজ করার সময় এ ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়। ফলে সেখানে ঠিক কী কাজ চলছে, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে পিংটন উপত্যকায় গড়ে ওঠা পরিকাঠামো আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সুরক্ষাবলয়যুক্ত একটি কেন্দ্রের মূল ভবনের মাথায় প্রায় ৩৬০ ফুট উঁচু চিমনি দেখা গেছে। ভবনের উপরে নতুন বায়ুনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং তাপ নিরোধক ব্যবস্থার প্রমাণও মিলেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এখানে প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান নিয়ে কাজ হতে পারে। প্লুটোনিয়াম-২৩৯ আইসোটোপ ব্যবহার করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব—এই তথ্য সামনে আসতেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ Delhi University : রুচি তিওয়ারির ওপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রদের সহিং*সতা! গণমাধ্যমের উপর অশোভন আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক!

ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষজ্ঞ রেনি বাবিয়ার্জ মনে করছেন, ধরা পড়া বাঙ্কারগুলি বিস্ফোরক পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাঁর দেওয়া উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্ট-এর গবেষক হুই ঝাং। তাঁরও মত, গঠনের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের মিল অস্বীকার করা যায় না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসেব বলছে, ২০২৪ সালের শেষে চিনের হাতে ৬০০-র বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০০০-এ পৌঁছতে পারে। যদিও আমেরিকা ও রাশিয়ার মজুতের তুলনায় তা কম, তবু সিচুয়ানের এই নীরব নির্মাণ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles