বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বাড়ছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরে কোথাও জোটের অঙ্ক, কোথাও প্রার্থী নির্বাচন—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু ভোটের প্রস্তুতির মাঝেই যদি দলের ভেতরেই প্রশ্নচিহ্ন ওঠে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে সিপিএম শিবির।
দলের লড়াকু মুখ হিসেবে পরিচিত প্রতীক উর রহমান সম্প্রতি সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। রাজ্য সম্পাদকের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। মানসিক দ্বন্দ্বের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এই চিঠি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা—তাহলে কি দলের ভেতরে মতপার্থক্য এতটাই গভীর?
কিছুদিন আগেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছিল। সেই বৈঠক নিয়ে বিরোধী দলগুলির কটাক্ষের পাশাপাশি বামফ্রন্টের শরিকদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয় বলে জানা যায়। ঘনিষ্ঠ মহলে শোনা গিয়েছিল, এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট ছিলেন না প্রতীক উর রহমান। যদিও তিনি প্রকাশ্যে কারও নাম নেননি, তবু তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট—‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি হয় না’—নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।
২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে লড়েছিলেন প্রতীক। জিততে না পারলেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নজর কেড়েছিল। সামনেই আবার নির্বাচন, তাই তাঁকে ঘিরে সম্ভাবনার কথাও উঠছিল। কিন্তু তার মাঝেই দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা ও নীতি নিয়ে ক্ষোভ জমছিল বলে সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুনঃ China: চিনের নীরব সামরিক সম্প্রসারণের আভাস? উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়া রহস্যময় পরিকাঠামো কি প্লুটোনিয়াম প্রকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্তই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। যদিও চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএমের অন্দরেই যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা আর চাপা নেই। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্তে লাল শিবিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয় কি না।





