মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেছিলেন ‘বীর’ আবার পুরমন্ত্রী তাঁকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘বাঘ’ হিসেবে। কিন্তু সেই অনুব্রত মণ্ডল তিহাড় জেলে যেতেই আচমকাই ভোলবদল তৃণমূলের। তবে কী কেষ্ট গুরুত্ব হারাল দলে? অনেকের মতে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই সময় নেতার সঙ্গে দূরত্ব রেখে শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মাত্র।
আসলে গতকাল, মঙ্গলবার দিল্লি রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট অনুব্রতকে তিহাড় জেলে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরপরই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আর একজন জেলা সভাপতি তো ছোটো বিষয়”। এরপরই এই নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা।
এর আগে অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পরও একাধিকবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর দল। আবার দলের উপর অগাধ ভরসা রেখেই অনুব্রত নাকি ইডি-কে জানিয়েছিলেন যে তাঁর পিছনে তাঁর দল রয়েছে, তা কিচ্ছু হবে না। গরু পাচার মামলায় ধৃত একজনের মুখ থেকে এমন কথা দলকে বেশ অস্বস্তিতেই ফেলেছিল। এক্ষেত্রে অনুব্রত যে কতটা প্রভাবশালী, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই কারণেই কী এবার কেষ্টর সঙ্গে কৌশল করেই দূরত্ব বাড়াচ্ছে দল? বিরোধীরা কী বলছেন এই নিয়ে?
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “তৃণমূল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। অনুব্রতরই তৃণমূল আর তৃণমূলেরই অনুব্রত”। তিনি এও করিয়ে দিয়েছেন যে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দল বহিষ্কার করলেও, পার্থর সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারেনি তৃণমূল। ঠিক তেমনভাবেইব অনুব্রতকে যেমন তৃণমূল ছাড়বে না, তেমনই অনুব্রতও তৃণমূলকে ছাড়বে না।
এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মত, “হয়ত অনুব্রতর প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে তৃণমূলে। বীরভূমের জেলা সভাপতি পদে বহাল থাকলে গত প্রায় ৮ মাস ধরে জেলবন্দি অনুব্রত। কেষ্টকে না সরিয়ে জেলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”। বর্ষীয়ান বাম নেতার কথায়, “অনুব্রতর কাছ থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই। তাই হয়ত অনুব্রতর সময় শেষ হয়ে এসেছে। তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে”। তাঁর সংযোজন, “খুঁটিটা যে ক্রমশ নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে, সেটা বুঝতে পেরেই এবার ভিন্ন সুরে কথা বলছেন তৃণমূল নেতারা”।
এই একই বিষয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের দাবী, তৃণমূল এমনভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে যে সেটা থেকে এখন বেরোতে না পেরে এসব বলছে। তাঁর কথায়, “ওরা বুঝতে পারছে না কীভাবে বেরিয়ে আসবে। তাই এখন ভিন্ন কথা বলছে। ওদের পক্ষে এখন এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা মুশকিল। বুঝতে পারছে না বলেই এই ধরনের কথা বলছেন ওদের মন্ত্রীরা। তবে যে মন্ত্রীর কথা বলছেন ওঁরা, তাঁর বিরুদ্ধে সাসপেনশনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। বহিষ্কার করা হয়নি কিন্তু”।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন যে দল কাউকে রেয়াত করবে না। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের নিন্দা করলেও অনুব্রতকে সমর্থন করে কোনও বার্তা তাঁর মুখে শোনা যায় নি।






