কলকাতা (Kolkata) হাইকোর্টের (High court) নির্দেশে ধর্মতলার( Dharmatala)মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসার অনুমতি পেয়েছেন চিকিৎসকরা। আরজি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এবং সিবিআই তদন্তের ধীরগতির বিরুদ্ধে এই ধর্নার আয়োজন করা হয়েছে। তবে আদালত কিছু শর্ত আরোপ করেছে, যা আন্দোলনকারীদের মেনে চলতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ডোরিনা ক্রসিং থেকে ৫০ ফুট দূরে মেট্রো ট্রাফিক গার্ডের সামনে ২০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্না চলবে। মঞ্চের আকার ৪০ ফুট লম্বা ও ২৩ ফুট চওড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং পুলিশ ওই এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখবে। একসঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। যদি ভিড় বাড়ে, তবে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা নিষিদ্ধ।
এই ধর্নার মূল উদ্দেশ্য হল আরজি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। সিবিআই ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডল জামিন পেয়েছেন, যা নিয়ে চিকিৎসক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিলের দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসক সংগঠন ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স’ এই ধর্নার আয়োজন করেছে। তাদের দাবি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক সমাজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, ধর্না চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে তারা সতর্ক থাকবেন এবং আদালতের আরোপিত শর্তগুলি মেনে চলবেন।
উল্লেখ্য, বড়দিন ও নববর্ষের সময়কালে এই ধর্না অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আদালত উৎসবের সময় শহরের আইনশৃঙ্খলা ও যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করে শর্ত আরোপ করেছে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোনও অসুবিধা না হয়। চিকিৎসকরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আজও স্মৃতি জড়িয়ে! ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর দুই বছর পরেও আদরের ‘বুনুর’ স্মৃতি আঁকড়ে মা দিদি ঐশ্বর্য
এই ধর্নার মাধ্যমে চিকিৎসক সমাজ তাদের ঐক্য ও সংহতি প্রদর্শন করছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। তারা আশা করছেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে নির্যাতিতার পরিবার ন্যায়বিচার পায় এবং চিকিৎসক সমাজের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।





