মর্মস্পর্শী! রামকৃষ্ণ মিশনের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আজ পথের ভিখারি, যুবকের করুণ কাহিনীতে চোখ ভিজবে আপনারও

আজকালকার দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেন গোটা পৃথিবীটাই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসে। নানান সময় নানান প্রান্তে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সহজেই জানতে পারি আমরা। এই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতেই মাঝেসাঝে এমন সব ভিডিও বা কাহিনী আমরা জানতে পারি, যা আমাদের বেশ ভাবুক করে তোলে বা বলা ভালো আমাদের প্রচণ্ডভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়ার নানান ভিডিও দেখে আমরা যেমন হাসি, তেমনই আবার অনেক সময় সেই ভিডিও আমাদের চোখে জলও আনে। এমনই এক ভিডিও এবার সামনে এল। পথযুবকের জীবনের করুণ কাহিনী জানলে চোখে জল আসবে সকলের।

রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের ছাত্র। পাশ করেছে উচ্চমাধ্যমিক। বর্তমানে খুব বড় চাকরি না করলেও, তাঁর স্থান হওয়া উচিত ছিল সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে। নিজের জীবনযাপনের জন্য নিজেকে আর্থিকভাবে মজবুত করে তোলার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তেমনটা হয়নি ব্যারাকপুরের কৌশিক কুণ্ডুর সঙ্গে। বরং আজ তাঁর জায়গা হয়েছে পথের ধারে বা স্টেশনে।

কখনও কখনও আমাদের চারিদিকে কত প্রতিভাই না ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু নিজেদের অজ্ঞতার কারণে সেই সমস্ত প্রতিভাকে আমরা অদেখা করি। এমন কত মানুষ যারা হয়ত নিজেদের জীবনকে আরও ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করার যোগ্যতা রাখে, তারাই আজ সমাজে অবহেলিত হয়ে রয়েছে।

যেমন ব্যারাকপুরের এই যুবক কৌশিক কুণ্ডু। ব্যারাকপুরের রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। তারপর বিজ্ঞান নিয়ে পাশ করেছে উচ্চমাধ্যমিকও। কিন্তু তাঁর আজ এমন করুণ অবস্থা যে রাস্তায় লোকজনের থেকে খাবার চেয়ে খেতে হয়। কেউ যদি খাওয়ায় তো ভালো আর তা না হলে খালি পেটেই কেটে যায় গোটা দিন।

বাড়িতে থাকতে তাঁর ভালো লাগে না। বাড়িতে রয়েছে বাবা, সৎ মা ও সৎ ভাই। সৎ মা খেতে দেয় না। সৎ ভাই বাড়িতে মারধোর করে, খারাপ ব্যবহার করে। সেই কারণে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেই কেটে যায় কৌশিকের সময়। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর করা ভিডিও থেকে কৌশিকের বিষয়ে জানা যায়।

কৌশিকের কথায়, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত সে। কিন্তু এক অজ্ঞাত কারণবশত তাঁর বাবা সেখান থেকে নিয়ে চলে আসে তাকে। তারপর বাড়িতে সৎ মা ও ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এখন তাঁর পরিচয় সে নাকি পথ ভিখারি। ভাতের হোটেলে খেতে পেলে খায়, নাহলে দিন কাটে খালি পেটেই।

কৌশিকের এই ভিডিও পোস্ট হতে তা বেশ ভাইরাল হয়। নানান মানুষ সমবেদনা জানান তাঁকে। তিনি যেন একটা সুস্থ জীবন কাটাতে পারেন, এমন প্রার্থনা করেন অনেকে। আবার অনেকের মতেই, কৌশিকের মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। ওর চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু তাঁকে যখন পড়াশোনা নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা হয়, তখন সে বেশ ভালোভাবেই সেসবের উত্তর দেয়। কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন হলে কী তা সম্ভব হত আদৌ?

একথাও ভাবাচ্ছে সকলকে। সেদিনের সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা কৌশিকের এই দিনটা দেখার হয়ত প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আজ তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন রাস্তায়। তাঁর খালি একটাই অনুরোধ কেউ যদি তাঁর থাকার একটা ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হয় না তাঁকে। কৌশিক কী পাবে আদৌ তাঁর সেই ঠিকানা?

RELATED Articles