বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে অন্দরের চাপা স্রোত। তারই মধ্যে হঠাৎ করে সিপিএম ছাড়ার সিদ্ধান্তে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রতীক-উর রহমান। তরুণ এই বাম নেতার পদত্যাগ ঘিরে দলীয় অন্দরে যেমন জল্পনা, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল—ঠিক কী ঘটল?
এই আবহেই মুখ খুললেন সিপিএমের রাজ্য নেত্রী তথা দলের ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচিত মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তবে প্রত্যাশামতো সরাসরি কোনও বিতর্কে জড়ালেন না তিনি। সংযত ভঙ্গিতে জানালেন, বিষয়টি তিনি প্রথমে দেখেছেন ফেসবুকে। তাঁর কথায়, “আমাদের পার্টির নেতৃত্বরা রয়েছেন, গোটা বিষয় তাঁরা বলবেন।” অর্থাৎ পুরো দায়ভারই তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের উপর ছেড়ে দিলেন। তবে একইসঙ্গে প্রতীক-উরের লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, রাজ্যজুড়ে কমরেডরা যেমন লড়ছেন, প্রতীক-উরও সেই লড়াইয়ের অংশ ছিলেন। কোনও একজন কর্মী দল থেকে সরে গেলে তার প্রভাব শুধু দলে নয়, খেটে খাওয়া মানুষের লড়াইয়েও পড়ে—এই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতীক-উর রহমান ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল তাঁর পক্ষে না গেলেও, মাঠে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাম শিবিরে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেই কারণেই ভোটের মুখে তাঁর সরে দাঁড়ানো দলকে ধাক্কা দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
দলের একাংশের মতে, সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট আলোচনা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি প্রতীক-উর। যদিও তিনি নিজে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ নেই। যা বলার তিনি দলের অন্দরে বলেছেন। বিষয়টি ‘দলের আভ্যন্তরীণ’ বলে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি, তবে সময় এলে সব জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ India Pakistan Conflict : শাহপুর কান্দি বাঁধ চালু হলেই বন্ধ সীমান্তপারের স্রোত? ইরাবতী নিয়ে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ কেন্দ্রের!
বর্তমানে রাজ্যে সিপিএমের না রয়েছে কোনও সাংসদ, না কোনও বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে এক তরুণ মুখের প্রস্থান নিঃসন্দেহে সংগঠনের পক্ষে বড় ধাক্কা। তবে শেষ কথা এখনও বলা হয়নি। শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। রাজনৈতিক মহলের নজর তাই আপাতত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দিকেই।





