মুম্বই জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে ভারতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল মাথা
মাসুদ আজহারকে গ্রেফতার করতে উঠে পড়ে লেগেছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ইমরানের দেশ। পাক আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১৮ই জানুয়ারির মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ তকমা পাওয়া ওই জঙ্গি নেতাকে।
রাজনৈতিক কূটনীতিবিদরা বলছেন এই সিদ্ধান্তের পর FATF (ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স)-এর ধূসর তালিকা থেকে যে করেই হোক বেরতে ইসলামাবাদের এই মরিয়া মনোভাব।
গতকাল অর্থাৎ শনিবার গুজরানওয়ালার সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের এক সূত্র জানাচ্ছে, বিচারক নাতাশা নসিম সুপ্রা নির্দেশ দিয়েছেন ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সন্ত্রাসে আর্থিক মদতে অভিযুক্ত আজহারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করতে হবে। অন্যথায় আদালত তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কোণঠাসা হয়ে যায় পাকিস্তান। হামলার দায় স্বীকার করা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের শতাধিক জঙ্গিকে বাধ্যত গ্রেপ্তার করে তাঁরা। গ্রেপ্তার করা হয় আজহারের ছেলে ও ভাইকেও। কিন্তু আজহার ছিল অধরাই।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, দীর্ঘদিন আজহারের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে এসেছে পাকিস্তান। চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরে তারা মানতে বাধ্য হয় জৈশ-ই-মহম্মদের প্রধান তাদের দেশেই রয়েছে। যদিও ঠিক কোথায় ঘাপটি মেরে আছে আজহার, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। গত মাসে ‘সানডে গার্ডিয়ান’ পত্রিকার দেওয়া খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে আইএসআই-এর আশ্রয়েই রয়েছে সে। এরপর রাষ্ট্রপুঞ্জে তরফে আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর এই ঘটনাতেই আন্তর্জাতিক মহলে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
তবে তার আগে থেকেই FATF-এর ধূসর তালিকার ছায়ায় ঢুকে বসে রয়েছে পাকিস্তান। ২০১৮ সালের জুন মাসে ওই তালিকায় ঢোকার পর থেকেই অনেক চেষ্টার পরেও মুক্তি মেলেনি। ফলে অস্বস্তি ক্রমশই বেড়েছে ইমরান সরকারের। এই পরিস্থিতিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে FATF-এর আগামী বৈঠকের আগে ভাবমূর্তি শুধরে নিতে মরিয়া ইসলামাবাদ।
আর তাই কেবল আজহারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাই নয়, গ্রেপ্তার করে সাজা শোনানো হয়েছে ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভিকেও।
তাই পাকিস্তানের এই হঠাৎ তৎপরতায় যথেষ্ট কটাক্ষ করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তবও ইসলামাবাদকে খোঁচা মেরে জানিয়েছেন, এসব শুধুই ধূসর তালিকা থেকে বেরনোর চেষ্টা।





