বাংলাদেশের রাজনীতি গত কয়েক মাস ধরে অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর থেকে দেশজুড়ে নানা গুঞ্জন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনো নিশ্চিত নন, আগামী দিনে দেশ কোন পথে এগোবে। এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে থাকা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনূসকে (Mohammad Yunus) ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী? দলটি কি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে, নাকি বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক যুগের দিকে এগোচ্ছে? এই অস্থিরতার মধ্যেই ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকার স্থিতিশীলতা আনতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধী শক্তি নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারির কড়া মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে নাসিরউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে ইউনূসের বিরুদ্ধেই ‘যুদ্ধ’ হবে! তাঁর বক্তব্য, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। এনসিপি-এর মতে, এই দলটি গণতান্ত্রিক নয়, বরং এটি ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ যারা বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে। ফলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রাখা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ ‘লাল পার্টি’ কি তৃণমূলের পথেই? CPI(M)-এর DP-তে নীল-সাদা, ভোটের আগে তোলপাড় রাজনীতি!
ইউনূস অবশ্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা করেনি। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সেই বিচার চলাকালীন দলটির রাজনৈতিক স্বীকৃতি বাতিল করা উচিত। অর্থাৎ, তাঁরা চান, আওয়ামী লীগকে চিরতরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ আরও বড় সংকটের দিকে এগোচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার কি সত্যিই নিরপেক্ষ থাকবে, নাকি আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে? ইউনূস কি এই চাপে টিকতে পারবেন? নাকি নতুন কোনো চমক অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে? উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ!





