গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই নিম্নমুখী ভারত-চীন সম্পর্ক। এই পরিস্থিতিতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি সহ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতাধীন প্রকল্পগুলির কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সোমবার আফগানিস্তান, নেপাল ও পাকিস্তানকে আহ্বান জানালো চীন। দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলে চারদেশীয় সহযোগিতার আলোচনা হচ্ছে এবং তাতে ভারত নেই, এমনটা আগে দেখা যায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেজিং-এর পক্ষে এই পদক্ষেপ কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। পাকিস্তানের পা চীনের দিকে বেড়েই আছে। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে নেপাল সরকারেরও। আর আফগানিস্তানের এই বৈঠকে উপস্থিতি, সেই দেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় বেজিং আরও বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত, সেই দিকেরই ইঙ্গিত করছে। তাই কূটনৈতির বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই অঞ্চলে ভারতকে এবার একঘরে করার কৌশল নিয়েছে বেজিং।
তাঁদের কথায় এই কাজে ‘চারদলীয় সহযোগিতা’র প্রয়োজন। সোমবার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, অর্থমন্ত্রী খুশরো বখতিয়ার, নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালি এবং আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী হানিফ আতমার। করোনা অতিমারী নিয়ে আলোচনার জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন এমনটাই দাবি করেছিল বেজিং। কিন্তু গত কয়েক মাসব্যাপী ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের এই তিন প্রতিবেশি দেশকে নিয়ে তাঁদের বৈঠক যে শুধু করোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা মনে করছেন না কোনও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞই।
প্রসঙ্গত, চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকের পর যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে ভারতকে এই অঞ্চলে একঘরে করার প্রবল চেষ্টা চালাচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং, এই চার রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই চার দেশ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে মত বিনিময় এবং সংযোগ জোরদার করার মধ্য দিয়ে ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতি’ বজায় রাখার কথাও বলেন। যার লক্ষ্য নয়াদিল্লি বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানকে আদর্শ মানার উপদেশও দেন তিনি। ওয়াং বলেন পাকিস্তান-কে দেখে শিখতে। তিনি জানান, ইসলামাবাদ ও বেজিং ‘লৌহ ভ্রাতা’, অর্থাৎ লোহার মতোই মজবুত তাঁদের বন্ধন। মহামারি মোকাবিলায় ও অর্থনৈতিক করিডোর তৈরিতে চীন-পাকিস্তান সহযোগিতার উদাহরণ, নেপাল ও আফগানিস্তান-কে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীন-পাকিস্তান সহযোগিতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আফগানিস্তান এবং নেপালের উচিত, চারদেশীয় যৌথ উদ্য়োগে মহামারি প্রতিরোধ ও কোভিড -১৯ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা-কে সম্প্রসারিত করা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার