সারাবিশ্বে এখন আতঙ্কের ওপর নাম করোনা ভাইরাস। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে ১২ বছর আগেই। করোনা নামক মারণ ভাইরাসের জীবাণুকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে চীনই। সার্স-কভ-২ আসলে রাসায়নিক মারণাস্ত্র না তার স্বাভাবিক উৎস আছে এই নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে তোলপাড় চলছে। ইজরায়েল, আমেরিকা এই ভাইরাসকে চিনের বায়োসোফটি লেভেল-৪ ল্যাবোরেটরিতে বানানো রাসায়নিক মারণাস্ত্র বলে দাবী করেন। কিন্তু অপরদিকে অনেক বিজ্ঞানীরাই বলছেন এটি মারণাস্ত্র হিসেবে তৈরি নয় এর একটি নিজের উৎস আছে।
সূত্রপাত তো সেই চীন থেকেই তবে কি এর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে চীনের মধ্যেই? বিজ্ঞানীরা বলছেন চীনই হলো করোনা ভাইরাসের স্বাভাবিক উৎস এবং বাহকও। আর এই রোগ একদিনে মারাত্মক ভাবে ছড়ায়নি, বছরের পর বছর ধরে এই ভাইরাসকে নিজেদের মধ্যে লালন-পালন করে গেছেন চীনের বাসিন্দারা।
‘ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজি’ জার্নালে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সার্স ভাইরাসের (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) ভয়াবহ হামলা এর আগেও দেখেছিল চীন। ২০০২-০৩ সালে এই ভাইরাসের হানায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সার্স আসলে বিটা-করোনাভাইরাসেরই পরিবারের সদস্য (SARS-CoV)। সার্সের উৎস বলা হয়েছিল বাদুর। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের পরিবারের মধ্যে প্রাণঘাতী এই বিটা-করোনা। তারই দুই সদস্য সার্স ও মার্স (মিডল-ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) মহামারী হয়েছিল বিশ্বে। পরিবার যখন একই তখন উৎসও এক।এই বিটা-করোনাদেরও উৎস হচ্ছে বাদুর, প্যাঙ্গোলিন, উট, ইত্যাদি স্তন্যপায়ী প্রাণী। কাজেই ধরে নেওয়া যায় চীনেদের খাদ্যাভাসের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে এই সংক্রমণ ছড়ানোর আসল কারণ।
অন্যদিকে একেবারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন কিছু বিজ্ঞানী। মারণাস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে এই ঘটনা বলে জানাচ্ছেন তারা। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আইনের অধ্যাপক ও রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনের অন্যতম প্রধান ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেছিলেন, নোভেল করোনাভাইরাস নিছকই কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয়। উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। একই দাবি করেছিলেন ইজরায়েলি গোয়েন্দা, মাইক্রোবায়োলজিস্টরা এবং একই দাবী করেছেন মার্কিন সেনেটর টম কটনও।
তবে সম্প্রতি ‘নেচার’ পত্রিকায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, রাসায়নিক মারণাস্ত্র হয়তো নয়, এই ভাইরাস তার স্বাভাবিক উৎস ও বাহক খুঁজে পেয়েছে। চীনের বাজারে খুব সাধারণ হলো বাদুড়ের মাংস। তাছাড়া খাদ্যাভাসে অসংযম এই সবের কারণেই ভাইরাস মানুষের শরীরেই তার বাহক কোষ খুঁজে পেয়েছে। বছরের পর বছর মানব শরীরে একাধিকবার নিজেদের ইচ্ছামতো জিনের গঠন বদলেছে মারণ জীবাণু। আর ধীরে ধীরে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে সংক্রমন এর কৌশলও আয়ত্ত করে ফেলেছে। ভাইরাস-প্রতিরোধী যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় মানব শরীরে, তাকে আটকে রাখার উপায়ও তৈরি করেছে এই ভাইরাল-স্ট্রেন। “অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম”-এ তারা নিজেদের বিবর্তন ঘটিয়ে এমন শক্তিশালী পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যাকে রোখা কিংবা খুব সহজে তার প্রতিষেধক বার করা কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তবে মানুষ যদি এখনও সচেতন হয় আর রোজকার জীবনযাত্রায় বদল আনে তাহলে হয়তো এই সংক্রমণ আটকানো সম্ভব হবে। তবে মানুষের মধ্যে এই রোগের ভয়াবহতাকে অবগত করানো এবং এর সচেতনতা সম্বন্ধে বোঝানো খুবই আবশ্যক। না হলে এই ভাইরাস আরো অনেক মানুষের জীবন কেড়ে নেবে।





