একদিকে যে হারে বিশ্বে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ, সেইভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে প্রতিষেধকও। এরমধ্যেই মঙ্গলবার বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে করোনা প্রতিষেধক বাজারে আনার দাবি করল রাশিয়া। এক সাংবাদিক বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এখনও অবধি এটি যাদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে তাঁদের শরীরে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিষেধক আসতে না আসতেই বিশ্বের ২০টি দেশ এই ভ্যাকসিন কিনতে আগ্রহী হয়েছেন এবং তাই এবার পাঁচটি দেশে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালও সম্পন্ন হতে চলেছে।
যদিও ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল এখনও হয়নি। তাই এই চূড়ান্ত ট্রায়ালের জন্য ৫টি দেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন বয়স এবং বিভিন্ন অনাক্রম্যতাযুক্ত মানুষের শরীরে এই প্রতিষেধকটি প্রয়োগ করা হবে। এই পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রাজিল এবং ফিলিপিনস। এই ট্রায়াল সম্পূর্ণ হলেই বাণিজ্যিকভাবে এই ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু হবে।
রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ফান্ডের (RDIF) আধিকারিক কিরিল দিমিত্রভ (Kirill Dmitriev) জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই এই ভ্যাকসিনের প্রতি অনেক মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীব্যাপী ২০টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ভ্যাকসিন তৈরির প্রস্তাব এসেছে।” এই সংস্থা দাবি করেছে, এ বছরের শেষ অবধি রাশিয়া ২০ কোটি টিকার ডোজ তৈরি করতে সক্ষম। এছাড়া আরও ৩০ কোটি টিকা তৈরি করবে। পরের বছর থেকে মোট ৫০ কোটি করোনা প্রতিষেধকের ডোজ তৈরি করবে রাশিয়া।
এই সংস্থার কর্মকর্তা দিমিত্রভ জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার এই ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করছে। যাতে রাশিয়াকে এই ভ্যাকসিনের কৃতিত্ব দিতে না হয়।’ প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে রাশিয়ার তৈরি এই ভ্যাকসিনের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরাও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাশিয়াকে জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে সুরক্ষাবিধি মেনে এই প্রতিষেধক তৈরির আবেদন করেছিলেন।





