ভেবেছিলেন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাতেই হারাবেন করোনা ভাইরাসকে, পারলেন না জার্মান মেয়র

যে মারণ ভাইরাস গোটা বিশ্বকে কাবু করে ফেলেছে, সেই ভাইরাসকে এক লহমায় পরাজিত করার কথা ভেবেছিলেন বার্লিনের ডিস্ট্রিক্ট মেয়র স্টিফেন ভন ডিসেল। কিন্তু লড়াইয়ের মাটিতে নেমে বুঝলেন, করোনাকে হারানো ‘মুশকিল ই নেহি, না মুমকিন হ্যায়”। তিনি নাকি ইচ্ছে করেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কারণ তাঁর ধারণা ছিল নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে এই ভাইরাসকে হারিয়ে দিতে পারবেন তিনি। তাই সুযোগ থাকতেও সুরক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থাই করেননি স্টিফেন। বরং বেপরোয়া ভাবেই নিজের শরীরে এই মারণ ভাইরাসকে বাসা বাঁধতে দিয়েছিলেন। জানিয়েছেন মেয়র নিজেই। তারপরে করোনা আর কোনোভাবেই তাঁকে করুণা করছে না।

Deutsche Welle-এর রিপোর্ট অনুসারে নিজের সঙ্গীর থেকেই সংক্রমণ হয়েছে এই জার্মান মেয়রের।  সংক্রমণের পর অবশ্য তাঁর বেপরোয়া মনোভাব হারিয়ে গিয়েছে। মারাত্মক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। আর তাঁর শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বা প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে যে এই করোনাভাইরাসকে রোখা সম্ভব নয় স্পষ্ট ভাবে বুঝে গিয়েছেন সেটাও। তাঁর এই অবস্থার কথা প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কী করে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করতে পারেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বার্লিনের ওই ডিস্ট্রিক্ট মেয়র অবশ্য সাফাই গেয়েছেন, “যতটা ভেবেছিলাম এই ভাইরাস তার থেকেই অনেক বেশি মারাত্মক। আমি ভেবেছিলান দিন তিনেক অসুস্থ থাকব। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অসুস্থ রয়েছি আমি। যা কল্পনা করেছিলাম ব্যাপারটা তার থেকেও অনেক খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি আমার হাতের বাইরে বেরিয়ে গেছে।“

এত কিছুর পরেও অবশ্য বছর ৫৩-র এই মেয়র অবশ্য নিজের কীর্তিকলাপকে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চেয়েছেন।  আপাতত ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ওই মেয়র এবং তাঁর সঙ্গীকে। মেয়রের দাবি তিনি কোনও ভুল বার্তা সমাজকে দিতে চাননি এবং তাঁর থেকে যাতে কারও সংক্রমণ না ছড়ায় সে ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল যে নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে করোনাভাইরাসকে হারিয়ে দিতে পারবেন। যদিও বাস্তবে সেটা হয়নি। বরং দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন মেয়র স্টিফেন এবং এখনও তিনি নিজের বোকামোর ফল ভুগছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment