সাম্য, ন্যায় বিচারের স্বার্থে পাকিস্তানে উঠল ধর্মীয় ‘সংখ্যালঘুদের’ ‘অমুসলিম’ তকমা দেওয়ার দাবি! 

পাকিস্তানে নির্মম হিন্দু অত্যাচার বিশ্ববাসীর কাছে অজানা নয়। ইসলাম ধর্মাবলম্বী এই দেশে সুরক্ষিত নয় অমুসলিম কোন‌ও জাতিই। এবার সেই দেশেই সাম্য ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘অমুসলিম’ তকমা দেওয়ার দাবি উঠল।

ইমরানের দেশের সংসদের নিম্নকক্ষে এমনই বিল পেশ করল সেই দেশের সাংসদ কিসো মাল কিয়াল দাস। তিনি পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সাংসদ।

পাকিস্তানে ধর্ম ভিত্তিক সংখ্যালঘুদের বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই ‘অমুসলিম’ তকমা দেওয়াটা প্রয়োজন বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিসো মাল কিয়াল দাস ২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ প্রক্রিয়া ও পরিচালনা বিধির ১১৮ নম্বর ধারার অধীনে এই প্রাইভেট বিল পেশ করেন।

আপাত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার এই বিলের বিরোধিতা করেনি। নিম্নকক্ষের দ্বিপাক্ষিক কমিটির পর্যালোচনার পর, ভোটাভুটির জন্য বিলটির উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমানে পাকিস্তানে হিন্দুরাই বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সরকারি হিসেব বলছে, পাকিস্তানে ৭৫ লক্ষ হিন্দু বাস করেন। তবে ওই দেশে বসবাসকারী হিন্দুদের মতে জনসংখ্যা ৯০ লক্ষেরও বেশি। পাকিস্তানের মোট ২২ কোটির জনসংখ্যার ৩.৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, আহমাদী, পার্সী এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

সেই সম্প্রদায়গুলির জন্য ওই বিলে কী উল্লেখ করা হয়েছে?

জানা গেছে, কিসো মাল কিয়াল দাস বিলে লিখেছেন, ‘ এই সংখ্যালঘু শব্দের ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের এক বড় সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এটি সাম্যের চেতনার পরিপন্থী।

এই দেশে যাঁদেরকে সংখ্যালঘু হিসেবে ধরা হচ্ছে, সেই জনসংখ্যা পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’

আর‌ও পড়ুন: কোভিড কোথা থেকে ছড়িয়েছ? চীনকে কড়া প্রশ্ন আমেরিকার, না বললেই শি জিনপিং পড়বেন বড় বিপদে!

তিনি দাবি করেছেন অমুসলিম শব্দ ব্যবহার করলে এই বৈষম্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।  তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘সংবিধানে ৪ বার ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি এবং ১৫ বার ‘অমুসলিম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সংবিধানের নীতি নির্ধারণকারীদের অভিপ্রায়কে নির্দেশ করে।’

তাঁর মতে সংখ্যালঘুদের জায়গায় অমুসলিম শব্দটি ব্যবহার করে এই বৈষম্য অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব হবে।

RELATED Articles