শুক্রবার সকালটা যেন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিল মায়ানমারের সাধারণ মানুষের কাছে। এক মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দ। রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প কেঁপে দিল দেশটিকে। সকাল থেকে পরপর ১৫ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশক ছিল ৬.৭ মাত্রার। শহর থেকে গ্রাম— সব জায়গাতেই ধ্বংসস্তূপের ছবি, আতঙ্ক আর কান্নার শব্দ।
প্রথম ধাক্কা কাটতে না কাটতেই একের পর এক আফটারশক যেন মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলল। হাসপাতাল, স্কুল, বাজার, অফিস— কোনও জায়গাই নিরাপদ রইল না। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন, রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু জায়গায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, শুক্রবার রাতেই জান্তা সরকার ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
৭০০-র কাছাকাছি মৃত, আহত বহু, ভারত দিল বিপুল ত্রাণ
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৬৯৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ১৬৭০-এর বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দালয় শহর, যেখানে বহু বাড়ি ও একটি মসজিদ ভেঙে পড়েছে। ব্যাঙ্ককের একটি ৩০ তলা নির্মীয়মাণ ভবনও এই ভূমিকম্পে ধসে গেছে। ঠিক এমন সংকটের সময়েই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবারই জানিয়েছেন, ভারত মায়ানমারের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশাল ত্রাণবাহী বিমান মায়ানমারের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে হিন্ডন বায়ুসেনা স্টেশন থেকে সি১৩০জে বিমান ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা দেয়। এতে রয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, সোলার ল্যাম্প, শীতবস্ত্র, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।
উদ্ধারে চ্যালেঞ্জ, ভারতের সাহায্য আশা জাগাচ্ছে
ভূমিকম্পের ধাক্কায় বহু রাস্তা এবং সেতু ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছে। বহু জায়গায় এখনও বিদ্যুৎ নেই, ফলে রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের পাঠানো সোলার ল্যাম্প ও বিশুদ্ধ জল পরিশোধক এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরও সাহায্য পাঠানো হবে। ইতিমধ্যেই মায়ানমারের সরকার ভারতের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকা মায়ানমারের সাধারণ মানুষও ভারতের এই মানবিক সাহায্যকে স্বাগত জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Weather Update: দক্ষিণবঙ্গে অগ্নিদাহ, তাপপ্রবাহের আশঙ্কা! উত্তরবঙ্গে মিলবে কি স্বস্তির বৃষ্টি?
মায়ানমারের ভবিষ্যৎ কোন পথে? ভারতের পাশে থাকার বার্তা
এই বিপর্যয়ের ফলে মায়ানমারের অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধের আতঙ্কের মাঝেই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। তবে ভারতের দ্রুত সহায়তা এক আশার আলো দেখাচ্ছে। শুধু মায়ানমার নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভব করেছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত তার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসেনি। এখন দেখার, কত দ্রুত মায়ানমার এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারে। তবে ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে। একের পর এক ত্রাণ পাঠিয়ে ভারত আবারও প্রমাণ করল— শুধু প্রতিবেশী নয়, মানবিকতারও এক বড় উদাহরণ।






