অপ্রত্যাশিতই বটে! এয়ার ইন্ডিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করল পাকিস্তান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল! নয়াদিল্লি থেকে ত্রাণসামগ্রী ও প্রায় শতাধিক ইউরোপীয় নাগরিককে নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমান। ভারতে লকডাউন চলায় ওই নাগরিকরা এদেশে আটকে পড়েছিলেন।
ওই বিমানের এক সিনিয়র ক্যাপ্টেন জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমান পাকিস্তানের এয়ার স্পেসে ঢুকতেই পাক এটিসি-র তরফ থেকে ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এয়ার ইন্ডিয়ার। এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু হিসেবে তাঁর কাছে এটি গর্বের মুহূর্ত।
তিনি বলেন, আমাদের বিমান পাকিস্তানের ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন-এ(এফআইআর) ঢুকতেই পাক এটিসি-র তরফ থেকে আমাদের স্বাগত জানানো হয়। বলা হয়, “আসসালাম আলাইকুম। ফ্রাঙ্কফুর্টে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে করাচি কন্ট্রোল। কনফার্ম করুন, আপনারা ফ্রাঙ্কফুর্টে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন।”
পাক এটিসি-র প্রশ্নের উত্তরে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন বলেন, “অ্যাফার্ম”। এরপরই পাক এটিসি-র তরফে বলা হয়, “আপনাদের সরাসরি কেবুড এক্সিট পয়েন্ট পর্যন্ত উড়ানের অনুমতি দেওয়া হল।” প্রত্যুত্তরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ক্যাপ্টেন বলেন, “ধন্যবাদ, সরাসরি কেবুড পর্যন্ত অনুমতি দেওয়ার জন্য।”
ওই ক্যাপ্টেন জানান, এতক্ষণ পর্যন্ত নিয়মমাফিক কথোপকথন ছিল। কিন্তু এর ঠিক পরেই অপ্রত্যাশিতভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে পাক এটিসি। বলা হয়, “যেভাবে আপনারা এই মহামারী পরিস্থিতিতে ফ্লাইট অপারেট করছেন, তাতে আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। শুভ কামনা।” জবাবে ভারতীয় বিমানের তরফে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
সৌজন্যের এখানেই শেষ হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানের ক্যাপ্টেন বলেন, পাক আকাশসীমা থেকে যখন তাঁরা ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করছিলেন, তখন কোনওভাবে ইরানের এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পাক এটিসি। এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি বিশেষ বিমানের পজিশন তেহরান এয়ারস্পেসকে তারাই সরবরাহ করে। ওই ক্যাপ্টেন জানান, এরপরে ইরানের তরফেও বিশেষ সৌজন্য দেখিয়ে অভাবনীয়ভাবে তাঁদের বিমানকে সরাসরি ১০০০ মাইলের ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়, যা একমাত্র ইরানের বায়ুসেনার জন্য সংরক্ষিত।





