ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বাংলাদেশ (Bangladesh)। স্বামী এবং মা-বাবার সম্পত্তিতে হিন্দু (Hindu) ও বৌদ্ধ (Buddhist) নারীদের সমানাধিকারের জন্য আইন প্রণয়নে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও ধর্ম সচিবকে পাঠানো হয়েছে এই নোটিশ।
এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, একমাত্র যাঁরা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে শাস্ত্রমতে পিণ্ডদান করতে পারেন তারাই শুধুমাত্র সম্পত্তির অধিকারী হতেন। এখনও পর্যন্ত লাগু এই একচোখো হিন্দু আইনের সবচেয়ে খারাপ দিকটি হল, কন্যা সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়টি। দেশভাগের বহু আগে ১৯৩৭ সালে তৈরি এই হিন্দু আইন অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী (successor) শুধুমাত্র ছেলেরাই। দীর্ঘকাল যাবৎ বঞ্চিত মেয়েরা।
মৃত ব্যক্তির ছেলে থাকলে সম্পত্তির ভাগ পেতেন না তাঁর মেয়েরা। আর ছেলে না থাকলে অবিবাহিত ও পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়া মেয়েরাই একমাত্র সম্পত্তির অধিকার পেতেন। বঞ্চিত হতেন বন্ধ্যা, বিবাহিতা বা বিধবা ও কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়া মেয়েরা। অর্থাৎ মেয়েদের অধিকার নির্ভর করত ছেলে থাকা বা না থাকার ওপর। তবে, ২০১২ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের আইন কমিশন (Bangladesh law commission) হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে সমান ভাগ দেওয়ার জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করে। তার ঠিক আট বছর বাদে এবিষয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয় ঢাকা হাই কোর্ট (Dhaka high court)।
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা (Tanay Kumar Saha) এই নোটিশ পাঠান। তিনি বলেন, “সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে নারীদের সমান অধিকারের কথা বলা আছে। এছাড়া বাংলাদেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য। ওই সব কনভেনশনের আর্টিকেলগুলোতে এটি বাস্তবায়নের কথা আছে। তাই এ বিষয়ে আইন করতে নোটিশ দিয়েছি। নোটিশের জবাব না পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এর আগে ঢাকা হাইকোর্ট এক রায়ে জানায়, এখন থেকে স্বামীর সকল সম্পত্তির ভাগ পাবেন বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা। এর ফলে ৮৩ বছর পর স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার ফিরে পেলেন বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা।





