সরাসরি হিউস্টনে চীনা দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। করোনা সংক্রমণের সময় থেকে চীনের সাথে মার্কিন মুলুকের সংঘাত বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে। এবার সেই সংঘাতকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও।
বিশ্ব জুড়ে এখন প্রায় সব দেশই চীনের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভারতেও চীনের একাধিক অ্যাপ এবং প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে। এবার চীনের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল মার্কিন সরকারও। শুক্রবার আমেরিকার হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে চীনা দূতাবাস বিষয়ে ট্রাম্পের নির্দেশ নিয়ে পম্পেওকে প্রশ্ন করলে তিনি স্পষ্ট জানান, “হিউস্টনে চীনা দূতাবাসটি গোপনে তথ্যচুরি করে নিজেদের দেশে পাচারের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। তাই এই সপ্তাহেই আমরা সেটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। বিগত ৮ বছর ধরে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আগ্রাসনের ব্যাপারে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিই নি। কিন্তু দু’সপ্তাহ আগে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এইসব বিষয়ে আমরা তৎপর হবো এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ওই অঞ্চলে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাধীনতাও অক্ষুন্ন রাখব।”
https://twitter.com/ANI/status/1286411188939587584?s=20
তবে এখানেই থেমে না গিয়ে তিনি আরও বলেন, “ চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির উদ্দেশ্য মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া নয়। বরং তাদের কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের ক্ষমতা বিস্তার করে অন্য দেশের প্রতি আগ্রাসন চালানো। তাই এবার চীনকে রুখতে একটি স্পেস ফোর্স বানিয়েছি আমরা।”
এটা প্রথমবার নয় মার্কিন বিদেশ সচিব এর আগেও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সেনেটর মার্কো রুবিও চীনা দূতাবাসকে ‘কমিউনিস্ট পার্টির গুপ্তকাজের মূল আস্তানা’ বলেছিলেন। তাঁর দাবি, হিউস্টনের ওই চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে চীন আমেরিকাতে নিজের প্রভাব খাটায়। তার প্রমাণও হাতেনাতে মিলেছে। মার্কিন ন্যায়বিচারালয় ইতিমধ্যেই মার্কিন সংস্থা থেকে করোনার যাবতীয় ওষুধপত্রের গোপন নথি চুরির চেষ্টায় দু’জন চীনা হ্যাকারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে ওই দুই অভিযুক্ত যে হিউস্টনে চীনা দূতাবাসের সাথে কোনোভাবে যুক্ত ছিল তার প্রমান মেলেনি। কিন্তু চীনা দূতাবাসটি বন্ধের নির্দেশ আসার সাথে সাথেই দূতাবাসের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছে মার্কিন প্রশাসন।
কূটনীতিবিদদের মতে, আমেরিকার এই দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ সহজে মেনে নেবে না চীন। এই মুহূর্তে বেজিং-সহ পুরো চীনে আমেরিকার পাঁচটি দূতাবাস রয়েছে। চীনের দূতাবাস বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলির মধ্যে থেকে কোনও একটি দূতাবাস বন্ধ করার নির্দেশ দিত পারে শি জিনপিং প্রশাসন। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই দু’দেশের মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এরমধ্যে দূতবাস বন্ধের নির্দেশ ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যেকার সম্পর্ককে আরো খারাপ করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।





