কোভিড টিকা কোভিশিল্ডে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, টিকার জেরেই বিরল রোগ দানা বাঁধছে শরীরে, দায় স্বীকার করল অ্যাস্ট্রাজেনেকা

Side Effects for Covishield: করোনা অতিমারি কালে সবথেকে বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল টিকার। নানান দেশের গবেষকরাই পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন কীভাবে এই মারণ রোগকে ঠেকানোর জন্য কত দ্রুত টিকা তৈরি করা যায়। সেই সময় অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ডের যৌথ উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল AZD1222। অ্যাস্ট্রাজেনেকা সেই ফর্মুলা নিয়েই ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট বাজারে এনেছিল কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন। এবার সেই ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধেই উঠল সাংঘাতিক অভিযোগ (Side Effects for Covishield)

জানা গিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি এই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনে রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects for Covishield)। এই টিকার ফলেই বিরল রোগ দানা বাঁধছে শরীরে। এই টিকার জেরেই থ্রম্বোসিস-থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম (টিটিএস) দেখা যাচ্ছে অনেকের শরীরে যার জেরে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে (Side Effects for Covishield)। আর এই অভিযোগ আদালতে স্বীকার করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

জানা গিয়েছে, এই টিকাত ট্রায়াল রানের সময় যেমন ইতিবাচক রিপোর্ট মিলেছিল, তেমনই আবার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ও উঠে এসেছিল (Side Effects for Covishield)। ফলে কিছু সময়ের জন্য ট্রায়াল রান বন্ধ থাকলেও, পরবর্তীতে তা ফের শুরু হয়। তবে ২০২৩ সালে জেমি স্কট নামের এক ব্যক্তি অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তাঁর অভিযোগ ছিল, এই কোভিশিল্ড টিকা নেওয়ার পর থেকেই তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয় আর রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও কমে গিয়েছে। সেই সময় ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ আদালতে আইনি নথি জমা করে বলা হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকার ফলে বিরল রোগ টিটিএস হতে পারে। অনেক আইনজীবীই এই টিকাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবী করলেও অ্যাস্ট্রাজেনেকা তা অস্বীকার করেছিল (Side Effects for Covishield)

অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে ৫১টি মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। এই টিকার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত বা আক্রান্তের পরিবার মামলা দায়ের করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবীও করেছেন। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দায় স্বীকার করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা (Side Effects for Covishield)

এই বিরল রোগ আসলে কী (Side Effects for Covishield)?

এই করোনার টিকার কারণে থ্রম্বোসিস-থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম (টিটিএস) রোগ হচ্ছে যার ফলে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে যায় আর প্লেটলেট কমে যায়। যদিও প্লেটলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে কিন্তু এক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টো। অর্থাৎ প্লেটলেট কমে যাচ্ছে আর রক্তও জমাট বেঁধে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটা তখনই হয়, যখন প্লেটলেট স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় আর শরীরে ইমিউন রেসপন্স তৈরি হওয়ার কারণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি শরীরে প্রোটিন তৈরি করে সেই উপাদানগুলিকে আক্রমণ করে রক্ত জমাট বাঁধাচ্ছে। কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনে অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার করার কারণেই এমনটা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই রোগের ফলে শরীরের নানান জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যায়। প্লেটলেট কমে যাওয়ায় শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যায়। মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা, পায়ে ফোলা ভাব, শ্বাস নিতে সমস্যা, হাত পা কাঁপার মতো সমস্যা দেখা যায় (Side Effects for Covishield)

আইনি জটিলতার মধ্যে দায় স্বীকার করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা (Side Effects for Covishield)। তাদের তরফে বলা হয়েছে, “যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, স্বাস্থ্য সমস্যায় রয়েছেন, আমাদের সহানুভূতি রয়েছে তাঁদের ও পরিবারের প্রতি। রোগীর নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। ভ্যাকসিন সহ সমস্ত ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট এবং কঠোর মান রয়েছে”।

RELATED Articles