তুরস্কে ফের গির্জা বদলালো মসজিদে! অতীতের সেন্ট সেভিয়র গির্জা হয়ে উঠল মুসলিম ধর্মস্থান

গির্জাকে মুসলিম ধর্মস্থানে পরিণত করার হিরিক পড়েছে যেন তুরস্কে! ইস্তানবুলের অন্যতম দর্শনীয় এবং আকর্ষণীয় স্থান হেগিয়া সোফিয়ার পর ফের গির্জা বদলালো মসজিদে। হেগিয়া সোফিয়ার সময় তুরস্ক সরকারের সিদ্ধান্তে মিলেছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শুধু সেখানেই থেমে থাকল না তাঁরা। এবার আরও একটি অতিপরিচিত জাদুঘরকে বদলে দেওয়া হল মুসলিম ধর্মস্থানে।

বহু বছর আগে বাইজানটাইন গির্জা হিসেবেই পরিচিত ছিল এই সৌধ। পরে যা জাদুঘরের রূপ পায়। এবার এই জাদুঘরের‌ই ভোল বদলে দেওয়া হল। শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখন থেকে মুসলিম ধর্মস্থান হিসেবেই স্বীকৃতি পাবে স্থাপত্যটি। চোরা জাদুঘর অর্থাৎ অতীতের সেন্ট সেভিয়র গির্জা হালে হয়ে উঠল মসজিদ। প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোগান নিজে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বাইজানটাইন গীর্জা তথা জাদুঘরটি মসজিদে পরিণত হওয়ার কথা ঘোষণা হওয়ামাত্রই শুক্রবার স্থানীয় মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা সেখানে হাজির হন প্রার্থনার জন্য। নিঃসন্দেহে তাঁদের জন্য এটা দারুণ আনন্দের খবর। যদিও কর্তৃপক্ষ জানায়, এখনও পর্যন্ত সাধারণের নমাজের জন্য মসজিদ খোলা হয়নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ঐতিহাসিক হেগিয়া সোফিয়া পরিণত হয় মসজিদে। এই স্থাপত্যকে মসজিদ করার প্রস্তাব নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। আদালত তাতে সায় দেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তুরস্ক। দেশের আর্থিক সংকটের পরিস্থিতিতে মুসলিমদের সমর্থন পেতে তুর্কির প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে গ্রীস। ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিসও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় দুঃখপ্রকাশ করেন। সেসব উপেক্ষা করেই পুরোদমে মসজিদের পরিচয়ে ফেরে হেগিয়া সোফিয়া। ৮৬ বছরে প্রথমবার নমাজের ধ্বনি শোনা যায় সেই চত্বরে। ইসলাম সম্প্রদায়ের শ’খানেক প্রার্থনাকারীর সঙ্গে প্রথমবার এমন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে নমাজে যোগ দিয়েছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও।

RELATED Articles

Leave a Comment