প্রথমে গির্জা তারপর জাদুঘর ফের মসজিদ। বছর ৮৬ বছর পর ফের নিজের পুরোনো মর্যাদায় ফিরছে ঐতিহাসিক হাজিয়া-সোফিয়া। শুক্রবার জুম্মাবার। আর তাই এই বিশেষ দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য খুলছে তুর্কির এই প্রাচীন স্থাপত্য। ১৪৫৩ সালে হাজিয়া সোফিয়ায় প্রথমবারের মতো জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর ফের আজ।
একটা সময় জাদুঘর হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিল হাজিয়া-সোফিয়া। কিন্তু তুরস্কের এক আদালত এটিকে পুনরায় মসজিদে বহাল করার রায় দিয়েছে। ৮৬ বছর পর আজ আবার হাজিয়া-সোফিয়াতে নামাজ আদায় করবেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। স্বয়ং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসপ তাইয়িন এরদোগানও আজ নামাজ আদায় করবেন বলে জানা যাচ্ছে। সকাল দশটা থেকেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসছেন লোকজন। অনেক বছর পর জামাতের জন্য আজ রমরমা আয়োজন করা হয়েছে।
বর্তমান করোনা ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে মসজিদের পাঁচটি দরজা খোলা হয়েছে। ভিতরে প্রবেশ করতে ১১টি নিরাপত্তা ধাপ অতিক্রম করতে হবে। ৮৬ বছর ধরে হাজিয়া সোফিয়া ছিল জাদুঘর। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি ছিল দর্শনীয় স্থান। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো হাজিয়া-সোফিয়াকে বিশ্বের ঐতিহ্যশালী স্থান হিসাবে তালিকায় অন্তর্ভু্ক্ত করেছিল।
হাজিয়া-সোফিয়াকে জড়িয়ে রয়েছে বিশাল ইতিহাস। একই স্থানে দুই ধর্মের বাস। ৯১৬ বছর ধরে ছিল গির্জা। এর পর ৫০০ বছর ছিল মসজিদ। ১৯৩৪ সাল থেকে এটি জাদুঘর হিসাবে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছিল। সুলতান দ্বিতীয় মহম্মদ (উসমানীয় সুলতান) কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর খ্রীস্টানদের থেকে হাজিয়া সোফিয়াকে কিনে তিনি মসজিদে রূপান্তরিত করেছিলেন।





