চীনের দাবি অনুযায়ী মুসলিম বিশ্বের নেতা হতে চলা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবার ফুঁসে উঠছে মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রগুলিই। পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে ইতিমধ্যেই সংঘাতের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সৌদি আরবের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (United Arab Emirates)।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ইজরায়েল-আমিরশাহী সম্পর্ক নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরূপ মন্তব্যের পর থেকেই ইসলামাবাদের উপর খাপ্পা হয়ে রয়েছে আবু ধাবি। আর এবার নিজেদের রাগ প্রকাশ করতে পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিল এই দেশটি।
বুধবার এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে পাকিস্তানের বিদেশদপ্তরও। যদিও খবর নিশ্চিত করার পরও ইসলামাবাদ দাবি করে জানিয়েছে সম্পর্ক খারাপ করে নয়, করোনা পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।
https://twitter.com/ANI/status/1329261951340343296
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ইমরান খান প্রশাসনকে চিন্তায় রাখছে ভারত এবং ইজরায়েলের সুসম্পর্ক। আর ততোধিক সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর। যার জেরে আমিরশাহীতে বসবাস করা পাক নাগরিকদের রাতের ঘুম উড়েছে। তাঁদের উপর বাড়ছে পুলিশি নজরদারি ও হয়রানি। কর্মসূত্রে কয়েক লক্ষ পাকিস্তানি এখন দুবাই, আবু ধাবি-সহ আমিরশাহীর নানা শহরে বাস করেন। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, জেহাদ, সামাজিক অপরাধে বহু পাক নাগরিক জড়িয়ে পড়ায় পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে আমিরশাহী সরকার। প্রতিদিনই কয়েক হাজার পাকিস্তানির ভিসার আবেদন খারিজ করছে আমিরশাহী। বিভিন্ন অপরাধে শুধুমাত্র আবু ধাবির আল সুয়েইহান জেলেই বন্দি ৫ হাজার পাক নাগরিক।
মাত্র কয়েকদিন আগে মকিং মধ্যস্থতায় ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে আবু ধাবির বিরুদ্ধে সুর ছড়িয়েছিলেন ইমরান খান। এর ফলে তিক্ততা এসেছে দুই দেশের মধ্যে। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়। জেহাদি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়া নিয়েও পাকিস্তানের উপর বিরক্ত আমিরশাহী। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের কান্দাহারে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত হন আমিরশাহির পাঁচজন শীর্ষ কূটনীতিক।
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ওই হামলায় জড়িত ছিল পাক গুটচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ পরোক্ষে হামলা হয়েছিল আইএসআইয়ের নির্দেশেই। কিন্তু সেবার গোটা ঘটনার দায় ইরানের উপর চাপিয়েছিল ইসলামাবাদ। এবার সত্যি সামনে আসতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যত অগ্নি শর্মা হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।





