ফের এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ। বুধবার এক বিজেপি নেতাকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, সন্দেহের তীর শাসকদলের দিকেই। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চাপানউতোর চলছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এলাকায়। বিজেপি নেতার মৃত্যুর তীব্র নিন্দা করেছে পদ্ম শিবির। এই খুনের প্রতিবাদে তুফানগঞ্জ এলাকায় ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।
এই বনধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে তুফানগঞ্জে। এখনও পর্যন্ত এলাকা শুনশান। খোলেনি কোনও দোকানপাটও। বনধের সমর্থন ও বিরোধিতায় পথে নেমেছে শাসক-বিরোধী উভয় দলই।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তুফানগঞ্জ এলাকার সব দোকানই প্রায় বন্ধ। রাস্তাঘাটে লোকজনও কম। সকাল থেকেই চলছে গেরুয়া শিবিরের মিছিল।এই মিছিল ও বনধের বিরোধিতায় সামিল হয়েছে শাসকদল। এর জেরে একাধিক জায়গায় বচসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে মারুগঞ্জে তৃণমূল-বিজেপির কর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে এই ঝামেলা নিয়ন্ত্রণে আনে। বনধের জেরে গোটা তুফানগঞ্জ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম কালাচাঁদ কর্মকার। কোচবিহারের তুফানগঞ্জের ১ নং ব্লকের নাগকাটিগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তিনি। ওই এলাকার বিজেপি বুথের সম্পাদক ছিলেন কালাচাঁদ কর্মকার। ওই এলাকাতে দুটি ক্লাব রয়েছে, নেতাজি সংঘ ও স্বামীজি সংঘ। জানা যায়, কালীপুজো নিয়ে ওই দুই ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত মঙ্গলবার বিসর্জন হয়।
স্থানীয়দের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার সকালে ফের ওই দুই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বচসা বাঁধে। শুরু হয় হাতাহাতি। এরপর অশান্তি তুঙ্গে উঠতেই তা মেটানোর জন্য তড়িঘড়ি বের হন কালাচাঁদ কর্মকার। অভিযোগ, তখনই তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করা হয়। এর ফলে একাধিক চোট লাগে তাঁর। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করে। এরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে খুনের অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তুফানগঞ্জের চামটা মোড়ে জাতীয় সড়কে মৃত বিজেপি নেতার মৃতদেহ রেখে অবরোধ শুরু করেন কর্মী-সমর্থকরা। এর জেরেই আজ, বৃহস্পতিবার তুফানগঞ্জ মহকুমায় ১২ ঘণ্টা বন্ধের ডাক দেয়। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ নাকোচ করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবী, এখন সব মৃত্যু নিয়েই রাজনীতি করছে বিজেপি। কোনও মৃত্যু হলেই তাঁর অভিযোগে তৃনমূলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে তারা।






